আলমডাঙ্গা প্রতিনিধি \ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার মাছ বাজার থেকে আলিফ উদ্দিন রোড পর্যন্ত এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের নামে তোলা ময়লা ও কাদা-মাটি দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে রাস্তার পাশে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ড্রেন পরিষ্কার ও নির্মাণকাজের পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে ড্রেনের ঢাকনা খুলে ভেতর থেকে ময়লা, পলি ও কাদা-মাটি তোলা হয়। তবে সেগুলো দ্রুত অপসারণ না করে রাস্তার পাশেই ফেলে রাখা হয়। ফলে মাছ বাজার থেকে আলিফ উদ্দিন রোড পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কাদা, দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে পরিণত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে ড্রেন থেকে তোলা কাদা-মাটি ও ময়লার স্তূপ পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো রাস্তার ওপর ছড়িয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। দুর্গন্ধে পথচারীদের পাশাপাশি আশপাশের দোকানদাররাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এটি আলমডাঙ্গা পৌরসভার অন্যতম ব্যস্ত ব্যবসাকেন্দ্র। দুর্গন্ধ ও কাদার কারণে অনেক ক্রেতাই দোকানে আসতে চাইছেন না। ফলে বিক্রি কমে গেছে। কাদা-মাটি মানুষের পায়ে লেগে দোকানের ভেতর পর্যন্ত চলে আসায় ব্যবসার পরিবেশ আরও নষ্ট হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “ড্রেন পরিষ্কার করা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ময়লা দ্রুত অপসারণ না করায় আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। গত পাঁচ দিন ধরে দুর্গন্ধে এখানে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে।” এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভার ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, “ড্রেন থেকে কাদা ও ময়লা তোলার পরপরই টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে কিছুটা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি আমরা স্বীকার করছি। তবে আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই এগুলো পরিষ্কার করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “ ড্রেনের ভেতর থেকে যে কাদা তোলা হয়, সেটি অনেকটাই পানির মতো পাতলা থাকে। এ অবস্থায় পৌরসভার গাড়িতে তোলা হলে পুরো রাস্তা জুড়ে কাদা পড়তে থাকবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই সাধারণত কিছু সময় ড্রেনের পাশেই রেখে রোদে শুকানোর পর সেগুলো গাড়িতে করে ভাগাড়ে নেওয়া হয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুতই ময়লা অপসারণ করা হবে।” এদিকে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার আলমডাঙ্গা পৌর প্রশাসক শাহিনুর আক্তারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তার পাশে ফেলে রাখা ড্রেনের ময়লা ও কাদা-মাটি অপসারণ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শেষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
