ফের আশ্বাসে কুমারখালী ষ্টেশনে রেল অবরাধের ঘোষণা প্রত্যাহার

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ ‘জুলাইয়ের মধ্যেই একটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি হবে’ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের এমন আশ্বাসে আগামী বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী ষ্টেশনে রেল অবরোধের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেলের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে দুপুরে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা ও বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন, কুমারখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহিন, কুমারখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীর, আন্দোলন পরিচালনাকারী ও কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, কুমারখালী রেলষ্টেশন চত্বরে ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীকে বারবার আশ্বাস দিয়েও প্রশাসন কথা রাখেনি। গত সোমবার দুপুরে কুমারখালী স্টেশন চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার রেল অবরোধের ঘোষণ দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী। আন্দোলনকারীরা জানায়, কুমারখালী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর সুন্দরবন ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য প্রায় ৮ মাস ধরে আন্দোলন চলছে। সবশেষ গত ১১ মে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলার সময়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে ট্রেন থামানোর আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ৫৭ দিন পার হলেও প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পায়নি এলাকাবাসী। আন্দোলন পরিচালনাকারী শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, এর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাত্রাবিরতির আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। সেজন্য বৃহস্পতিবার অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ ( মঙ্গলবার) স্বয়ং রেল কর্মকর্তারা বৈঠক করে চলতি মাসের ( জুলাই) মধ্যে ট্রেন থামানোর কথা দিয়েছেন। সেজন্য আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে জুলাইয়ে ট্রেন না থামলে আগষ্টের এক তারিখ থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। বেনাপোল ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, বারবার আশ্বাসের পরও প্রশাসনিক কিছু জটিলতায় যাত্রাবিরতি সম্ভব হয়নি। আজ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আশ্বাস নয়, চলতি মাসের মধ্যেই ট্রেন থামবে।