নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশনা সারাদেশে ৫বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। ক্লিন সিটি গ্রিণ সিটি কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও কলেজের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। আলোচনা সভায় তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নির্দেশে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, মাদকের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ পরাভূত হচ্ছে। আমাদের যুব সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এসময় জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছেন। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় খাস জমি, সড়ক-মহাসড়কের পাশে, নদীর পাড়ে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ করা হবে। তারই পরিপেক্ষিতে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক সবাইকে একটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেন কারণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনএই কর্মসূচিটি বিএনপি’র ৩১-দফা পরিকল্পনার অংশ, যার মধ্যে ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ বা জাতীয় সবুজ মিশনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় বড় উদ্যোগ নেয়ার কথা রয়েছে। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গত ১৫-১৬ বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু কেউ মাথা নত করেননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আন্দোলনের বিজয় এসেছে। এখন পরিকল্পিতভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সময়। আগামী খুব শিগগিরই কুষ্টিয়া জেলার প্রতিটি এলাকায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এরপরও যারা সংশোধন হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (প্রাক্তন) প্রফেসর তৌফিক আহমেদ তাপস, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক পরিষদের নাজমুল হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শামিম উল হাসান অপু, দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ও জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফুহাদ রেজা ফাহিম। অনুষ্ঠানে কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তা ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) আব্দুল হাই সিদ্দিকী। আলোচনা অনুষ্ঠানের পূর্বে কলেজ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
