কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার

প্রশাসনের সমন্বয়ে সেবা সচল

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

আফসানা ইসলাম পুষ্প \ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে জরিমানার প্রতিবাদে অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের ডাকা ২১ ঘণ্টার ধর্মঘট স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সাথে এ্যাম্বুলেন্স মালিকদের আলোচনার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন এ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। এর ফলে রোগী পরিবহন সেবা আবার স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে। গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) গভীর রাতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতী আমির হামজা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের যানজট নিরসনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে মুঠোফোনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ৪ জুলাই (শনিবার) হাসপাতাল চত্বরে অবৈধভাবে পার্ক করা অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে চালক ও মালিকদের ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করে। জরিমানার প্রতিবাদে অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালকরা তাৎক্ষণিকভাবে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সমঝোতা হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিকরা এসেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে রোগী পরিবহনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। তারা এ বিষয়ে আমাদের কাছে আশ্বাস দিয়ে গেছেন।” হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মন্নান জানান, হাসপাতালের নিজস্ব দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তাদের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণেই জরিমানা করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স মালিক ক্যাভিয়াল নুর বাপ্পি বলেন, “হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রাখতে নিষেধ করায় আমরা সরিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু একদিনেই কুষ্টিয়ার মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ে। জেলা প্রশাসক আমাদের ডেকে কিছু নিয়মের মধ্যে সেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রোগীদের সেবায় প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।” আরেক মালিক শামীম জানান, হাসপাতালের নিজস্ব তিনটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সব রোগীর চাহিদা মেটানো অসম্ভব। তাই রোগীদের স্বার্থে সঠিক নিয়ম মেনে সেবা দিতে চান তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা যেমন অব্যাহত থাকবে, তেমনি হাসপাতালের শৃঙ্খলাও বজায় রাখা সম্ভব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।