কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়: চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত

নির্দিষ্ট ভিজিটিং আওয়ার থাকলেও মানছে কেউ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

 

নিজ সংবাদ \ সরকারি হাসপাতালে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ার থাকলেও তা মানা হচ্ছে না কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। ফলে অতিরিক্ত ভিড়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না। একজন রোগীর সঙ্গে প্রায়শই ৬-৭ জন দর্শনার্থী অবস্থান করায় ওয়ার্ডে চলাচল, চিকিৎসা প্রদান ও পরিবেশ সবই ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মন্নান বলেন, “রোগীর স্বজনদের সাক্ষাতের জন্য নির্দিষ্ট ভিজিটিং আওয়ার রয়েছে। আমরা রোগীদের স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিস দিতে না পারায় একজন অ্যাটেন্ডেন্টকে সার্বক্ষণিক থাকার অনুমতি দিই। কিন্তু বাস্তবে একজন রোগীর সঙ্গে অনেক সময় ৬-৭ জন লোক থাকেন। রোগীর সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দর্শনার্থী কমানো জরুরি।” আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হাসান জানান, সকালের রাউন্ডের সময় দর্শনার্থীদের বাইরে রাখা সম্ভব হলেও সারাদিন তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। নার্সরাও অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ভিড়ে ওয়ার্ড নোংরা হয় এবং জরুরি সেবা দিতে বেগ পেতে হয়। ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহানাজ খাতুন ও মিডওয়াইফ মাহফুজা আক্তার বলেন, অবজারভেশন রুমসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত লোকের চাপে ইমার্জেন্সি সেবা দিতেও সমস্যা হয়। মেল মেডিসিন ওয়ার্ড ইনচার্জ সাজেদা আক্তার জানান, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছুটা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও বাকি সময় তা সম্ভব হয় না। রোগীর স্বজনরা অবশ্য বলছেন, হাসপাতালে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা না থাকায় বাইরে যেতে হয়। ফলে রোগীর সঙ্গে থাকা জরুরি হয়ে পড়ে। তবে তাঁরাও স্বীকার করেন, অতিরিক্ত ভিড় কমলে চিকিৎসক-নার্সরা আরও ভালো সেবা দিতে পারবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেছে, নির্ধারিত সময়ে সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থী রাখলে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হবে এবং রোগীরা পাবেন নিরাপদ পরিবেশ।