নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করায় অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্মকর্তারা। হাসপাতাল চত্বরে নো-পার্কিং এরিয়ায় গাড়ি পার্কিং করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং হাসপাতালের পরিবেশ বিশৃঙ্খল করার অভিযোগে গতকাল শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। পরিদর্শনকালে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলেন। তিনি এ সময় বলেন- সকালেই অভিযান করেন, হাসপাতালের সামনে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। পরদিন গতকাল অভিযানে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পার্কিং করা মোটর সাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত করা এবং হাসপাতালের নির্ধারিত পার্কিং নীতিমালা অমান্য করার দায়ে কয়েকজন চালককে জরিমানা করা হয়। তথ্যসূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিআরটিএ প্রতিনিধি ও হাসপাতাল প্রতিনিধি(আরএমও) উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনা করে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ৯০ ধারায় ৭টি মামলায় মোট ১৪ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের আরএমও ডা: ইকবাল হাসান মোবাইল কোর্টে অভিযান পরিচালনা ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যারা নো-পার্কিং স্থানে যানবাহন রেখেছিলো তাদের জরিমানা করে বিআরটিএ কর্মকর্তারা। এছাড়া অন্যান্যদের সতর্ক করা হয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা যাবে না জানিয়ে অটোরিকশাসহ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সতর্ক করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জিলকদ হোসেন জানান, হাসপাতাল এলাকায় জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রবেশ ও চলাচলের পথ সবসময় সচল রাখা প্রয়োজন। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে রোগী, স্বজন এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। তাই জনস্বার্থে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং করার আহ্বান জানান অভিযান পরিচালনাকারীরা। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের পক্ষে শামীম আহমেদ নামে এক ব্যক্তি বলেন, জরুরি রোগীর সেবা প্রদানে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এর নির্দিষ্ট কোন স্থান না থাকায় জরুরি বিভাগের সামনে গাড়িগুলো রাখা হয়। তিনি বলেন, হুট করে এমপি রাতে ডিসিকে অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার আগে অ্যাম্বুলেন্স রাখার নির্দিষ্ট স্থান দেওয়ার দরকার ছিলো। তার এমন সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে নারাজ অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। শামীম আহমেদ জানান, আমরা ডিসি মহোদয়ের কাছে যাবো, জনগণের সেবা প্রদানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এর নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বঞ্চিত হবে। জরিমানা দিয়ে ব্যবসা করার উপায় নেই।
