নিজ সংবাদ \ রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি বিভাগ আয়োজিত বৃক্ষমেলা ও ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ডঃ আবুল হাশেম, মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ডীন প্রফেসর আকতার হোসেন এবং ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সুভাষ চন্দ্র ভৌমিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার নওয়াব আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টোর আব্দুল গফ্ফার। বৃক্ষমেলা ও ফল উৎসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে ভিন্ন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা নানান প্রজাতির ফলের পাশাপাশি নানা প্রজাতির বৃক্ষের পসরা সাজিয়েছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোঃ আতাউর রহমান বলেন, বৃক্ষ আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপুর্ন অংশ। জীব বৈচিত্র এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ আমাদের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বেশি পরিমান বৃক্ষরোপন এবং পরিচর্চার মাধ্যমে সামাজিকভাবে আমরা দায়বদ্ধ আর এরই ধারাবাহিকতা রক্ষায় রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফল এবং বৃক্ষের মেলা দারুন এক উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আজকের এই মেলাকে আনন্দের সাথে গ্রহন করেছে। তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে এই মেলা গুরুত্ববহন করবে পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সকলে আরো বেশি উদ্যোগী ও উদ্যোমী হতে পারবে। তিনি আরো বলেন, আজ আমাজান বন সারাবিশ্বের ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রনী ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় ব্যতিক্রমী চিন্তা ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। শুধুমাত্র পুথিগত বিদ্যা নয়, একজন শিক্ষার্থীকে মুক্তচিন্তা ভাবনার সুযোগ সৃষ্টিতে এই ধরনের আয়োজন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরে তিনি ফিতা কেটে দিনব্যাপী এই বৃক্ষমেলা ও ফল উৎসবের উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ডঃ আবুল হাশেম বলেন, আজ সারাবিশ্বে গাছ লাগনো হচ্ছে আবার প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে গাছ কর্তন হচ্ছে তাই গাছ লাগানোকে বেশি প্রধান্য দিতে হবে অন্যাথায় আমরা মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখিন হবো। আজকের এই বৃক্ষমেলা ও ফল উৎসব ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা রাখি। মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ডীন প্রফেসর আকতার হোসেন বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে যাচ্ছে। গাছের গুরুত্ব অপরিসীম ও অপরিহার্য তাই বেশি পরিমান গাছ লাগানো এবং পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজায়ন গড়ে তুলতে পারলে আমরা সকলে উপকৃত হবো। ইংরেজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সুভাষ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, সমাজের সর্বস্তর থেকে বৃক্ষরোপন এবং এর সঠিক পরিচর্যা মাধ্যমে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারি। আজকের আয়োজনের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষরোপনে উৎসাহ সেই সাথে পরিবেশ রক্ষায় তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক ধারনা পৌছে দিতে পারবো বলে আশা রাখি। সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার নওয়াব আলী বলেন, অধিক পরিমান বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি সেই চিন্তায় রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর এই ধরনের ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি সুন্দর মেসেজ পৌছে দেয়া সম্ভব।
