নিজ সংবাদ \ বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই কুষ্টিয়ার লালন বিজ্ঞান ও কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বড় দলগুলোর ম্যাচ। গতকাল রবিবার সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ ঘিরে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে জড়ো হয়েছিলেন শত শত দর্শক। খেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি ও পতাকা হাতে সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এক আর্জেন্টিনা সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আর্জেন্টিনার খেলাই সেরা। মেসি পরে নামলেও দল দারুণ খেলেছে। আমার মনে হয় আর্জেন্টিনা ও স্পেন ফাইনালে উঠবে।” প্রথমার্ধে দুই গোলের পর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল উদ্দাম। এক নারী সমর্থক বলেন, “মেসি ছাড়াই আমরা দুই গোল দিয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। মেসিকে নিয়েও আমরা আরও আশাবাদী। দল এখন আর শুধু মেসি-নির্ভর নয়।” বড় পর্দার গ্যালারিতে জমে উঠেছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের রঙিন খুনসুটি। হাসি-ঠাট্টায় মুখর ছিল পুরো পরিবেশ। এক ক্ষুদে আর্জেন্টিনা সমর্থক তার ব্রাজিল জার্সি পরা ছেলেকে দেখিয়ে বলেন, “ওর আর্জেন্টিনার খেলা দেখার শখ, তাই সেভেন আপ খাইয়ে নিয়ে এসেছি।” ছেলেটি জবাবে বলে, “আমাদের পাঁচটা তারকা, আর্জেন্টিনার সেই সক্ষমতা নেই।” জার্মানির এক সমর্থক জানান, “এখানে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দেখতে এসেছি। বড় পর্দায় সবাই মিলে খেলা দেখার আনন্দই আলাদা।” বয়স, লিঙ্গ ও পেশার সীমানা ভুলে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই একসঙ্গে উল্লাস করছেন। কে কোন দলের সমর্থক তা বড় কথা নয়, ফুটবল যে সবাইকে এক করে দেয়—কুষ্টিয়ার এই বড় পর্দার আসরে তারই প্রমাণ মিললো।
