চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের বড় ভাই পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ দুই প্রতারক আটক

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি \ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের বড় ভাই পরিচয় দিয়ে চাকরি ও বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গার হেলাল নামের এক ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মুসলিমপাড়ার রাসেল আলীর সাথে কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুর এলাকার জাহিদুল ইসলাম ডাবলুর পরিচয় করিয়ে দেন। পরিচয়ের সময় জাহিদুল ইসলাম ডাবলু নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের বড় ভাই হিসেবে দাবি করেন। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা চাকরি এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে রাসেল আলীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ নিতে শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোট ৫৬ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে প্রতিশ্রুত কোনো কাজ না হওয়ায় তার মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে প্রতারক চক্রটি আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। স্থানীয়রা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জাহিদুল ইসলাম ডাবলু ও কালু মন্ডল নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাদের আলমডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে চক্রের অপর দুই সদস্য হেলাল ও তফসের ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর বাড়ি এবং প্রতারণার মূল ঘটনাস্থল চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হওয়ায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক দুই ব্যক্তিকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের নাম, জেলা প্রশাসকের আত্মীয় পরিচয় কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি, বদলি, নিয়োগ বা সরকারি কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকারি চাকরি বা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো ব্যক্তি অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা উচিত। অন্যথায় প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, দুইজনকে আটক রাখা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।