ঝিনাইদহে আ.লীগ-বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৯ জন আহত

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি \ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় পুকরের মাছ লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. বজলুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেনের গ্রুপের লোকজনের মধ্য এই সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাকিবুল ইসলাম ওরফে ছটো (৪৭), ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) ও বাচ্চু মিয়া (৩২)। তাঁরা একই গ্রামের বাসিন্দা। আহত ব্যক্তিদের হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বজলুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেনের দুটি গ্রুপ রয়েছে। বজলুর রহমানের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলামের বোয়ালিয়া বিলের মাঠে একটি বড় পুকুর রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুকুরের বড় বড় মাছ ভেসে তীরে এলে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেনের গ্রুপের লোকজন সেই মাছ লুট করে নেয়। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেন রাকিবুল ইসলাম। পরে শুক্রবার সকালে আবার পুকুর দেখতে গেলে রাকিবুল ইসলামের ওপর হামলা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার বজলুর রহমানের গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৯ জন আহত হন। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা রিপন দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের লোকজন বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন। আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বজলুর রহমান বলেন, তাঁর ভাইয়ের পুকুরের মাছ লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা করে গুরুতর জখম করেছে। এই ঘটনায় শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। হরিণাকুন্ডু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসিত কুমার রায় বলেন, ‘সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলায় ১৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’