তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা শিক্ষায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মানবদেহের অ্যানাটমি শিক্ষায় হাড়ের অভাব দূর করতে তারা গড়ে তুলেছেন দেশের প্রথম ‘ বোনস ব্যাংক’। ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছে মানবদেহের বিভিন্ন অস্থি, যা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজে এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান। উদ্বোধনী দিনেই ১৫তম ব্যাচের ১০০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় এই বোনস সেট। শিক্ষার্থীরা জানান, এক সেট হাড়ের দাম বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, যা অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য অসাধ্য। এই উদ্যোগের ফলে তাদের আর্থিক চাপ কমবে এবং হাতে-কলমে শিক্ষা সহজ হবে।

১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “দরিদ্র শিক্ষার্থীরা এখন সহজেই বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মানব কঙ্কালকে আমরা সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করছি।” আরেক শিক্ষার্থী ফাহিম জানান, প্রত্যেক মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য এক সেট বোনস অত্যাবশ্যক, কিন্তু এর উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই পিছিয়ে পড়েন। তাই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ব্যাংক গড়ে তোলা হয়েছে। শিমুল ও তাসলিম ফেরদৌসী জানান, সিনিয়রদের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বোনস ব্যবহারের পর পুনরায় ব্যাংকে জমা দিয়ে চক্রাকারে চালু রাখবেন। ফলে এক সেট বোনস দিয়ে দুই বছরের বেশি সময় শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, “এই উদ্যোগ সারাদেশের মেডিকেল কলেজের জন্য অনুকরণীয়।” কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শহিদুল ইসলাম এটিকে কলেজের ইতিহাসে স্মরণীয় বলে অভিহিত করেন। পপুলার গ্রুপের এমডি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এই বোনস ব্যাংক শুধু পাঠদান নয়, গবেষণাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগ চিকিৎসা শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
