নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে কিছু অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও যান। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল দশটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত জেলার এ দুটি বড় হাসপাতালে তিনঘন্টা থাকেন। জেনারেল হাসপাতালে দুই ঘন্টা থেকে সেখানে বিভিন্ন ওয়ার্ড, রান্না ঘর ও রোগীদের সেবা বিষয়ে খোজ খবর নেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি এক ঘন্টা থাকেন। সকাল ছয়টায় সরাসরি সড়ক পথে তিনি ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ঢোকেন। বেলা বারটা পর্যন্ত সেখানে থাকার পর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে এক ঘন্টা থাকার পর বেলা একটার দিকে সড়ক পথে আবার তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। দুটি হাসপাতাল সূত্র জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের ব্যাপারে প্রশাসন থেকে চিকিৎসা কর্মকর্তারা কেউই অবগত ছিলেন না। সরেজমিন দেখা যায়, ঠিক সকাল দশটায় মন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি হাসপাতালের তত্বাবধায়কের কক্ষে যান। তিনি হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের ডিজিটাল হাজিরা ও রেজিষ্ট্রার খাতার হাজিরার তথ্য যান। এসব তথ্য দেখে কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্সদের অনুপস্থিতি দেখতে পেয়ে সে ব্যাপারে জানতে চান। কেউ কেউ মৌখিক ছুটি নিয়েছে জানালে মন্ত্রী তত্বাবধায়ককে বলেন, মৌখিক ছুটি নেবার কোন বিধান নাই। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী মেডিসিন (পুরুষ)ওয়ার্ডে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। রোগীদের বিছানার কাপড় উচু করে সেখানে মশা, ছারপোকা আছে কিনা তা নিজে দেখেন মন্ত্রী। পাশে মেডিসিন (নারী) ওয়ার্ডে গিয়ে সরাসরি রোগীদের ব্যবহৃত বাথরুম পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখতে পান সেখানে এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী পরিস্কারের কাজ করছেন। এসময় মন্ত্রী তাকে বলতে থাকেন,‘এই রাখো আমারে দেইখা শুরু করলা পরিস্কার, রাখো।’ কয়েকজন রোগীও বলতে থাকেন,একটু আগে থেকে পরিস্কার শুরু করছে।

এছাড়া রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা খাবারের বিষয়ে খোজ খবর নেন। রান্নাঘর অপরিচ্ছন্ন দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কুকুর বিড়ালের কামড় দেওয়া রোগীদের ভ্যাকসিন দেবার স্থানে গিয়ে রোগীদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন আছে এবং বিনামূল্যে সব দেওয়া হয় জানিয়ে উপস্থিত রোগীদের বলেন,‘কেউ টাকা চাইলে জানাবেন।’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,‘এখানে আসা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। সারা দেশের জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রাগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হচ্ছে। তিনি বলেন,‘গত ১৭ বছরে হাসপাতালের উন্নয়নে কোন কাজ হয়নি। কাজ করলে জবাবদিহিতা আছে এটা মানুষ ভুলে গিয়েছিল। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার অভাব ছিল বলেই স্বাস্থ্যখাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। যারা ক্ষমতায় ছিল তারা রাতের অন্ধকারে ভোট নিয়েছে। তাদের ভোটের দরকার পড়ে নাই,জনগণের কাছে যাবার দরকার পড়ে নাই। এজন্য তারা জনগণের কাছে দায়বন্ধ ছিল না। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কঠোরভাবে বার্তা দিয়েছে। আমরা আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে মানুষ কি বলে,বিছানা ঠিক আছে কিনা, ছারপোকা কত আছে, খাবারের মান কি, রোগীদের অবস্থা কি—এগুলো দেখার জন্য ভ্রমন করছি।’ তিনি আরও বলেন,‘দৃঢ়তার সাথে বলছি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এসে আগামী তিন মাসের ভেতর কুষ্টিয়া মেডিকেল চালু করবো। যত যন্ত্রপাতি আছে চালু করবো,ফার্নিচার কেনা হচ্ছে দরপত্র হয়ে গেছে। লোকবল দেওয়া হবে। এটা (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) চালু হলে জেনারেল হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।’ জেনারেল হাসপাতাল বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে ময়লা পেয়েছি, রাথরুম আমি আসার পর পরিস্কার করেছে তাওতো করেছে। বিছানাগুলো দেখলাম ছারপোকা পায়নি। আগে কি ছিল জানি না। জনগণের চাপ ও চিকিৎসকের সংখ্যা হিসাবে ভালো পেয়েছি। চিকিৎসক ও র্নাস উপস্থিতি ভালো। কয়েকজন দেরিতে ছিল তাদের সর্তক করা হয়েছে। ২৪ ঘন্টার ভেতর হাসপাতালের নালা পরিস্কারের কথা বলা হয়েছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন,‘প্রতি হাসপাতালে আধুনিক মানের তিন থেকে পাঁচটা অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। চারটা হেলিকপ্টার আনা হচ্ছে। মুমুর্ষু রোগীদের ঢাকাসহ কাছের হাসপাতালে যাতে দ্রুত নেওয়া যায়। চিকিৎসকের সংখ্যা জনগণের চেয়ে কম। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ হবে। জুলাই থেকে এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মি নিয়োগ দিতে যাচ্ছি যারমধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী।’ আর্থিক লুটপাটের জন্য বিগত সরকারের সময় অনেক হাসপাতালে যেখানে যন্ত্রপাতি দরকার নাই সেখানে কিনে ফেলে রেখেছে জানিয়ে মন্ত্রী জানান,‘ সেগুলোতে জং ধরেছে, ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। টাকা খেয়েছে। জনবল নাই কিনে ফেলে রেখেছে। আমাদের আমলে এটা হবে না। আমরা ভালো যন্ত্র দিবো,জনবল দিবো রক্ষনাবেক্ষন করবো।’ এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এবং সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল মন্নান, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
