কুমারখালীর সেই চালক পেলেন নতুন ভ্যান

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর অসহায় ও প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মো. মোশারফ হোসেন (৬১)। তাঁর বৃদ্ধ মা ও অসুস্থ স্ত্রীর ঔষুধ কেনা এবং সংসারের খরচ চালানো যখন থমকে গিয়েছিল, তখন আন্দোলনের বাজার পত্রিকা ও ডিজিটাল সংস্করণে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সংবাদের পর দেশ-বিদেশ থেকে মোশারফের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাকে একটি নতুন ভ্যান কিনে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাঁর কাছে নতুন ভ্যানটি হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। মোশারফ কুমারখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সংসারে তাঁর বৃদ্ধ মা নবিরন নেছা ও অসুস্থ স্ত্রী আলেয়া খাতুন রয়েছেন। জানা গেছে, গত ২ জুন উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া বড় জামে মসজিদের সামনে ভ্যানটি রেখে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান মোশারফ। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখেন, তাঁর ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানের সন্ধান না পেয়ে ৩ জুন কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তাকে নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। মূহুর্তেই সংবাদটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাহেদ নামের আমেরিকান প্রবাসী ১২ হাজার টাকা, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাকারিয়া আনছার মিলন ১০ হাজার টাকা এবং হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্?ফ) বাংলাদেশের সিনিয়র পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন এক লাখ টাকা মানবিক সহায়তা করেন। তারমধ্যে ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাকে একটি নতুন ভ্যান তৈরি করেন মোশারফ। উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাকারিয়া আনছার মিলন বলেন, ভ্যান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন বৃদ্ধ চালক। এমন সংবাদটি দেখে চালক মোশারফকে এন আই আনছার ফাউন্ডেশের উদ্যোগে ১০ হাজার টাকা মানবিক সহায়তা করা হয়। অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের প্রতিনিধি তকি উদ্দিন মোহাম্মদ আকরাম বলেন, সংবাদটি কামরুন নাহার ম্যামের নজরে আসলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে এক লাখ টাকা মানবিক সহযোগীতা করা হয়েছে। তারমধ্যে একটি নতুন ভ্যান তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এমন সংবাদ প্রকাশ করায় গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ। সরেজমিন দেখা যায়, খয়েরচারা বাজার – ফুলতলা সড়কের পাশে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করেন মোশারফ। বাড়ির সামনের সড়কে নতুন ভ্যানটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মা – ছেলে। নতুন ভ্যান পেয়ে তাঁরা আবেগ আপ্লুত। এ সময় বৃদ্ধ মা নবিরন কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ ছেলে ভ্যানডা হারিয়ে খুব টেনশনে ছিল। কয়ডা দিন শাক – পাতা তুলে খায়ছি। আপনারা ভ্যানডা দিছেন, খুশি হয়ছি। আল্লাহর কাছে দোয়া করব।’ স্ত্রী আলেয়া খাতুন বলেন, কয়ডা দিন কত সমস্যায় ছিলাম। মাথায় একটু তেলও নিতি পারিনি। সগলে মিলে ভ্যানডা দিছেন। এখন আবার কর্ম করে খাতি পারবনে। খুব খুশি হয়ছি আমরা।’ আবেগ আপ্লুত হয়ে প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক মোশারফ হোসেন বলেন, নামাজ পড়তে গিয়ে ভ্যান চুরি হয়েছিল। সবজাগা ঘুরাঘুরি করেও ভ্যান পাইনি। এদেশে কতবড় লোক আছে কেউ দেখিনি। এরপর খবরে দিলি পরে কামরুন নাহার, মিলন ভাই ও একজন বিদেশ থেকে মেলাগুলো টাকা দিছে। একখান ভ্যান বানায়ছি। চাল, ডাল, ওষুধ, তরিতরকারি কিনিছি। এখন আল্লাহ দিলি ভ্যানডা চালায় আবার কর্ম করে খাবনে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর চালক মোশারফের পাশে অনেক মানবিক সহযোগীতা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সংগৃহীত অর্থে একটি নতুন ভ্যান আজ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সহযোগীতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের সকল অসহায় ও দুস্থদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।