৪৮ কোটি টাকার খনন প্রকল্পে পুনঃজীবনের আশায় হিসনা নদী: স্থানীয়দের উচ্ছাস

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়ার হিসনা নদী ফিরে পেতে যাচ্ছে তার হারানো নাব্যতা। দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। হিসনা নদীটি কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। উৎপত্তিস্থল থেকে নদীটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ভেড়ামারা উপজেলা হয়ে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মাথাভাঙ্গা নদীতে গিয়ে পতিত হয়েছে। নদীটির সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এবং এর গড় প্রস্থ ৩০ মিটার। একসময়ের খরস্রোতা হিসনা বর্তমানে নাব্যতা সংকট, দখল ও দূষণের কারণে এটি অনেক স্থানে মরা খালে পরিণত হয়েছে। গতকাল রবিবার হিসনা নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের দীর্ঘদিনের স্মৃতি, আশা এবং হৃদয়ে জমে থাকা নদীর প্রতি ভালোবাসার কথা। হিসনা নদী তীরবর্তী বাসিন্দা রাসেল আহম্মেদ জানান, “বৃষ্টির পানিতে প্রায়ই জলাবদ্ধতা হয়। নদী খনন করলে এ সমস্যা দূর হবে।” আরেক বাসিন্দা আশাদুল হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ছোটবেলায় হিসনায় অফুরন্ত পানি ছিল। নৌকা চলতো, হাত দিয়েই মাছ ধরা যেত। নদী খনন হলে আমাদের জন্য বড় মঙ্গল হবে।” হিসনা নদীপাড়ের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “একসময় নদীতে স্রোত ছিল, মানুষ-গবাদি পশু গোসল করত। এখন কচুরিপানায় ভরা।” প্রবীণ শহিদুল ইসলাম জানান, “মানুষ দু’পাড় দখল করে নদীর রূপ নষ্ট করেছে।” আকবর আক্ষেপ করে বলেন, “একসময় ভালো মাছ পাওয়া যেত, এখন বাড়িঘর তৈরি করে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমান জানান, “হিসনা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবি। বিএনপি সরকারের নদী খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হিসনা ও সাগরখালী নদী খনন করা হবে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত।” নদী খননের এ খবরে স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, খননের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরবে। তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু খনন নয়, নদী রক্ষায় স্থায়ী নজরদারি ও দখল-দূষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই হিসনা ফিরে পাবে তার প্রাণ ও ঐতিহ্য।