৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প এখন কুমারখালী পৌরবাসীর গলার কাঁটা

বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬

 

নিজ সংবাদ \ ২০২৪- ২৫ অর্থবছরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আইনজীবি কাজলের বাড়ি থেকে মাথাভাঙ্গা মন্দির এবং তার সঙ্গে হারুন মিয়ার বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত মোট এক হাজার ৬৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৮৬ লাখ চার হাজার ৯৫৫ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি কাজটি শুরু করে চলতি বছরের ২৫ মার্চ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় আরও একমাস অতিবাহিত হলেও মাত্র চার ভাগ কাজ করেছেন ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশন। এছাড়াও একই সময়ে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সির মনোয়ার হোসেনের বাড়ি থেকে গড়াই সেতু পর্যন্ত ২৬০ মিটার এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফের দোকান থেকে খোকন মোড় পর্যন্ত ৩৭৮ মিটার ড্রেন নির্মাণ করার কথা ছিল নূর কনস্ট্রাকশনের। তবে নির্ধারিত সময়ে এই দুইটি ড্রেনের কাজই শুরুই করেনি ঠিকাদার। সুতরাং কাজের অগ্রগতি শূণ্য। এ দুটি ড্রেনের চুক্তিমূল্য প্রায় দুই কোটি ৩২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০ টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনটি ড্রেন ছাড়াও একই সময়ে দুইটি সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার চুক্তি ছিলো নূর কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের। তার মধ্যে একটি হলো- পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এম এন স্কুল – পাবলিক লাইব্রেরি পর্যন্ত এক হাজার ৩১০ মিটার সড়ক। প্রায় এক কোটি ৫৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের এটিতে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৬০ ভাগ। তবে প্রায় এক কোটি ৫১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪১ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গণমোড় থেকে দেলোয়ার মোড় পর্যন্ত ৯৫০ মিটার সড়কের নির্মাণ কাজ শুরুই হয়নি। এতথ্য জানিয়েছেন পৌরসভার কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরখানেক আগে শুরু হয়েছে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এবং অদক্ষ ঠিকাদারের অবহেলায় নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। খন্ড খন্ড কয়েকটি স্থানে ৫- ১০ মিটার করে ঢালাইয়ের কাজ হলেও ড্রেনের বদলে সড়কের ধারে শুধুই খোঁড়া হয়েছে নালা। তাতে ভেঙে গেছে চলাচলের সড়ক, বসতঘর, দেওয়াল, দোকানপাট। আসন্ন বরষায় বাড়তে পারে দুর্গতি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চলাচলকারী। প্রায়ই ঘটছে ছোট- বড় দুর্ঘটনা। নির্মাণাধীন ড্রেনের জন্য খোঁড়া নালায় জমে থাকা পানিতে ডুবে অকালেই যাচ্ছে প্রাণ। তবুও প্রয়োজন মেটাতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। ১৩ মে সকালে কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে সরেজমিন এ দৃশ্য দেখা গেছে।

এ সময় প্রতিবেদককে দেখে হাতে ভ্যানের চাকাসহ বিলাপ করতে করতে ছুটে আসেন স্থানীয় ভ্যানচালক মোক্তার হোসেনের স্ত্রী শারমিন খাতুন। তাঁর চোখে ছিল ছলছল জল। তিনি বলেন, ‘’ সোমবার ড্রেনে পড়ে ছয় বছরের ইফাদ মরে গেছে। মা ডা দৈনিক কাঁনতেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে আমি টয়লেটে ছিলাম। হঠাৎ ছেলে মোস্তাকিনের (৩) চিৎকার শুনে ওড়না ছাড়াই ছুটে এসে দেখি আমার সন্তানডা গর্তে পোইড়া গেছে। আমার স্বামী ভ্যানডা লইয়া পোইড়া গেছে সেদিন। তিনডা হাজার টাক্কা দিয়া চাক্কাডা লাগায়ছি। এই জরিপানাডা কিডা দিইবো। কিসব লোক দিয়া কাম করায়তেছে সরকার? একবছরেও কাম হয়না।” অরবিন্দ কুমারের ছেলে সমীর কুমার মিত্র বলেন, ‘ অদক্ষ অযোগ্য ঠিকাদার ভেক্যু দিয়ে নালা কেটে চলে গেছেন। কোনো প্রোটেকশন নাই। আমার বাড়ির দেওয়াল, পাশের বাড়ির দোকান ভেঙে পড়েছে। বিচার চেয়ে ১১ মে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’ তিনি পেশায় একটি বেসরকারি এনজিওর ব্যবস্থাপক।

এলংগী এলাকার ব্যবসায়ী কুরমান আলী (৬৫) আক্ষেপ করে বলেন, ‘পানি বের হবার পথ না থাকায় প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখে দেয়। সেজন্য বছরখানেক আগে ড্রেনের জন্য নালা কেটেছে। কাজের কোনো গতি নেই। কাজ না হওয়ায় দিনেদিনে পাকা সড়কের অর্ধেক ভেঙে গেছে। কারও ঘরবাড়ি, কারোবা দোকানপাট ভেঙে যাচ্ছে। গাড়িঘোড়া উল্টে পড়ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। কিছু বললেই উল্টো ঠিকাদের লোকজন ঝাঁড়ি মারছে। এসব দেখার কেউ নেই। এবার বৃষ্টির সময় চলাফেরায় হবে দায়।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এটা ঢাকার নূর কনস্ট্রাকশনের কাজ। কাজ ভালোভাবেই চলছে। তবে অগ্রগতি জানিনা। আর ঠিকাদারের প্রতিনিধি স্বপন শেখ মুঠোফোনে বলেন, ‘ ‘নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সময়মত কাজ করা যায়নি। তবে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছি। খুব দ্রুতই কাজ শেষ করা হবে।’ পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর কূলঘেঁষে ১৮৬৯ সালে কুমারখালী পৌরসভা গঠিত। ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণির স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই পৌরসভায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বাস। এখানে রয়েছে প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাপুড়িয়া হাট। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটনে সমৃদ্ধ পৌরসভাটিতে জলাবদ্ধতা নিরোসন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় আইইউজিআইপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫৬ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে উন্নত ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। মোট পাঁচটি প্রকল্পে কাজ ভাগ করে চারটির মূল্য নির্ধারনের পর ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি কাজের মেয়াদকাল একবছর। তার মধ্যে পাঁচ নম্বর প্রকল্পের ঠিকাদার নূর কনস্ট্রাকশন। চুক্তির সময়ের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠা মাত্র ১১ দশমিক ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে জনবল সংকটসহ নানাবিদ কারণে মূল্য নির্ধারন না হওয়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের চার নম্বর প্রকল্পটি এখনও টেন্ডারের জন্য আহবান করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। আরো জানা গেছে, ২০২৩ -২৪ অর্থবছরে প্রায় আট কোটি ২৬ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রথম প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে তিনটি এলাকায় দুই হাজার ২৪২ মিটার সড়ক ও এক হাজার ৬৪৭ মিটার ড্রেনেজ নির্মাণকাজের টেন্ডার পায় মাদারীপুরের কিংডম বিল্ডার্স ও নূরজাহান রিসোর্স ইন্টারন্যাশনাল (জেভি)। যদিও ঠিকাদারের নাম জানা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সুত্রদের দাবি, পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামানের অরুনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন ঠিকাদার। সেজন্য অরুনের লোকজনই ২০২৪ সালের ৪ মার্চ নির্মাণ কাজ শুরু করছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঠিকাদারের লোকজন পালিয়ে যান। এরপর তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় ঠিকাদার লিটন আলী এ কাজের দাঁয়িত্ব নেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭৬ ভাগ।

এরপর, একই অর্থবছরে প্রায় নয় কোটি ২৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় প্রকল্পে দুইটি এলাকায় মোট এক হাজার ৮৭৯ মিটার সড়ক ও মোট এক হাজার ৫০০মিটার ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের আবারো টেন্ডার পায় সাবেক মেয়ের আত্মীয় ও প্রথম প্রকল্পের ঠিকাদার। তাঁর লোকজন ২০২৪ সালের জুন মাসে কাজ শুরু করলেও বিভিন্ন কারণে তা সময়মতো শেষ করতে পারেননি। কয়েকদফা মেয়াদ বাড়িয়েও এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি প্রায় ৮১ ভাগ।

তারপর, ২০২৩- ২৪ অর্থবছরে আরও প্রায় নয় কোটি ২২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে তৃতীয় প্রকল্পে চারটি এলাকায় মোট তিন হাজার ৪৮২ মিটার সড়ক এবং দুইটি এলাকায় মোট এক হাজার ৬২০ মিটার ড্রেনেজ নির্মাণ কাজের টেন্ডার পায় ঢাকার সিএসআই-প্রিভিলিয়েন্ট জেভি। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকার তরিকুল ইসলাম কুমারখালী পৌরসভার বাসিন্দা। তিনিও ২০২৪ সালের ১ জুন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তবে নানাবিধ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন তরিকুল। পরে কয়েক দফা কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রায় ৮৭ ভাগ। গত মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাজীপাড়া রেলগেট- এলংগী- সাবেক কাউন্সিলর বাবুর বাড়ি- বড় মন্দির থেকে গড়াই নদীর সড়কঘেঁষে ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য নালা কাটা রয়েছে। সড়কের প্রায় অর্ধেকাংশের নালায় ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য রড, পাথর, সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও নালায় পানি জমে থাকলেও শুরু হয়নি ঢালাইয়ের কাজ। সেখানে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। ভেঙে গেছে সড়কের পাড়, সড়কের ধারের পাকা ঘরবাড়ি, দেওয়াল। নেই ঠিকাদার বা পৌর কর্তৃপক্ষের লোকজন। এ সময় এলংগী ২ নম্বরের ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবরসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য রমজান আলীর স্ত্রী সাহেরা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেড়- দুই বছর আগে পৌরসভায় ড্রেন নির্মাণের প্রথম কাজ শুরু হয় এখান থেকে। আমার বাড়ির পিছনের অংশ, বাথরুম সব ভেঙে দিয়েছে ঠিকাদার। তবে এতোদিনেও কাজ শেষ হয়নি। বাড়িতে ছোট ছোট দুই নাতিন আছে। কখন যে পড়ে যায় সেই ভয়ে ঘুম হয়না রাতে।’ তাঁর ভাষ্য, সোমবার বিকেলে তাঁর বাড়ির সামনে খুঁড়ে রাখা গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা গেছে শিশু ইফাদ ( ৬)। সে এলংগী নাতুড়িয়া পাড়ার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে। শিশুটির মামা স্বাধীন হোসেন বলেন, সময়মতো কাজ শেষ হলে এই ঘটনা ঘটতো না। ইফাদের অকাল মৃত্যুর জন্য ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষ দায়ী। এদের বিচার হওয়া উচিৎ। স্থানীয় গৃহিণী সম্পা সিংহ রায় বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ড্রেনের পানিতে ডুবে মানুষ মারা যাচ্ছে। অনেকেই আহত হচ্ছে। সকলে ভয়ে আছে। আমরা আর আতঙ্কে থাকতে চাইনা। আর কোনো দুর্ঘটনার আগেই যেন কাজ শেষ করা হয়।’ বৃহস্পতিবার সকালে থেকে কুমারখালী প্রধান শহরের প্রবেশপথ হলবাজার, গণমোড়, হাসপাতালমোড়, উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথ, বাসস্টান্ড, শাহীন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কচ্ছপ গতিতে চলছে ড্রেনেজ ও সড়ক নির্মাণের কাজ। জমে আছে বৃষ্টির পানি ও কাঁদা। ঝুঁকি নিয়ে হেটে ও যানবহনে চলছে মানুষ। হুমকিতে পড়েছে নির্মাণাধীন  ড্রেনেজ এলাকার দোকানপাট, বসতি। থমকে গেছে মানুষের জীবন ও জীবিকা। এসময় শাহিন মোড়ের খোকা শেখের ছেলে ভ্যানচালক আকামুদ্দিন সেখ (৭২) বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কাজ শুরু করে ঠিকাদার। ৫ তারিখের পর অনেকদিন কাজ বন্ধ ছিল। এরপর ৩-৪ মাস হলো পাকা সড়কের অর্ধেক কেটে ড্রেন করে চলে গেছে ঠিকাদার। কোথাও মাটি দিয়ে ভরাট করেনি আর। সবখানে উচু নিচু। গাড়িঘোড়া চালানো যায়না। মানুষ খুব কষ্টে আছে। তেবাড়িয়া নীলকান্তের স্ত্রী ঝর্ণা সরকার বলেন, বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ড্রেন করেছে বেটারা। এখন ড্রেনের দুইপাশে অনেকখানি ফাঁকা। মাটি সরে গিয়ে ঘরের দেওয়াল ফেটে গেছে। কখন যেন ঘরেবাড়ি ভেঙে পড়ে, সেই ভয়ে আছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুমারখালী হলবাজার এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, একমাস আগে প্রধান পাকা সড়কের মাঝখান দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। সড়ক বন্ধ করে এখনও কাজ চলমান। অধিকাংশ দোকানের সামনের অংশ ধ্বসে গেছে। একদিকে দোকান ভাঙার ঝুঁকি। অন্যদিকে ঈদ আসলেও বাজারে লোকজন নাই। বেঁচা বিক্রি নাই। শহর জুড়েই ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। এখন ব্যবসায়ীদের লোকসানের টাকা দেবে কে? ড্রেনে পড়ে শিশু মৃত্যুর পর থেকেই পলাতক রয়েছেন কিংডম বিল্ডার্স ও নূরজাহান রিসোর্সের ভারপ্রাপ্ত ঠিকাদার লিটন আলী। তাঁর মোবাইলও বন্ধ। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আসিফ হোসেন কুমারখালী হলবাজার এলাকায় নির্মাণ কাজের সময় থাকলেও ক্যামেরায় কথা বলেননি। তবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্তিরতা, স্থান সংক্রান্ত জটিলতা, বর্ষা মৌসুমসহ নানা কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। জুন মাস পর্যন্ত নতুন বর্ধিত সময় রয়েছে। এরমধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।

কুমারখালী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবীব চৌহান বলেন, সঠিক তদারকির অভাবে কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।’ জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস ধরে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী পদ শূণ্য রয়েছে। সহকারী প্রকৌশলী কুমারখালী ছাড়াও খোকসা পৌরসভায় অতিরিক্ত দাঁয়িত্বে ছিলেন। তবে সম্প্রতি এই সহকারী প্রকৌশলী নাটোরে বদলি হয়েছেন। সদ্য বদলিকৃত সহকারী প্রকৌশলী মো. আকরামুজ্জামান বলেন, সরকার পরিবর্তন, স্থান ফাঁকা না থাকা, বর্ষা, জ্বালানি তেলের সংকটসহ নানা কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবুও সবমিলে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পে প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঠিকাদারকে বলে মালামাল পরিবর্র্তন করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদের চরম গাফলতিতে নির্মাণাধীন এলাকায় শিশুমৃত্যু, দুর্ঘটনা, ভাঙন ও জনদুর্ভোগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আখতার। তিনি জানান, পৌরসভায় চরম জনবল সংকট রয়েছে। নিজের দপ্তরেরও অনেক কাজ থাকে। তাছাড়া সংস্কৃতি জনপদ হওয়ায় এখানে প্রায়ই বড় বড় জাতীয় প্রোগ্রাম থাকে। সবমিলিয়ে এতোদিনে নিবিড়ভাবে কাজগুলো তদারকি করা সম্ভব হয়নি। তাঁর ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর থেকে ঠিকাদার পলাতক রয়েছে। তাকে সশরীরে কারণ দর্শনানোর জন্য বলা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট প্রকৌশলীসহ সবাই মিলে এখন থেকে কাজের তদারকি করা হবে। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী- খোকসা) আসনের এমপি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ঠিকাদার পলাতক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণকাজের ধীরগতি হয়েছে। এতে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। চরম ভোগান্তি। দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্যে পৌর কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে।