আটবার হাতবদল হওয়া মোবাইলেই উন্মোচিত মা–ছেলের জোড়া খুনের রহস্য

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

রাজশাহীর বাগমারায় মা–ছেলের আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে প্রধান সূত্র হয়ে দাঁড়ায় একটি লুট হওয়া মুঠোফোন। হত্যার পর ফোনটি একের পর এক আটবার হাতবদল হয়। কখনো ৫০০, কখনো ৭০০ টাকায় বিক্রি হওয়া সেই ফোনের সন্ধান ধরেই প্রায় এক বছর পর হত্যার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর রাতে বাগমারা উপজেলার দেউলা গ্রামে নিজ বাড়িতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন আকলিমা বেওয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাহিদ হাসান (২৮)। ঘটনার পরদিন মামলা হলেও প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

তদন্তকারীরা নিহত আকলিমার নিখোঁজ মুঠোফোনের আইএমইআই নম্বর অনুসরণ করে দেখতে পান, ফোনটি বিভিন্ন ব্যক্তির হাতে বিক্রি হতে হতে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছেছে। ফোনটির হাতবদলের পুরো শৃঙ্খল অনুসরণ করে পিবিআই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তে উঠে আসে, আকলিমার সঙ্গে তাঁর চাচাতো দেবর আবুল হোসেন মাস্টার ও প্রতিবেশী হাবিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে তারা ভাড়াটে খুনি দিয়ে মা–ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার রাতে পাঁচ ভাড়াটে খুনি মোটরসাইকেলে করে এসে আকলিমা ও জাহিদকে হত্যা করে এবং ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনটি নিয়ে যায়।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত আবুল হোসেন মাস্টার, হাবিবুর রহমান ও আবদুর রাজ্জাককে মৃত্যুদণ্ড দেন। মামলার অন্য পাঁচ আসামিকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। একটি সাধারণ মোবাইল ফোনই শেষ পর্যন্ত এই চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের প্রধান চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।