নিজ সংবাদ:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে যৌনপল্লি ও পাশের সামসু মাস্টারপাড়ায় পৃথক এ হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও রোববার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইয়াকুব আলী পাল (৪০)। তিনি দৌলতদিয়া শাহাদত মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ পালের ছোট ভাই। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় তার বাঁ হাতের একটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যৌনপল্লির একটি দ্বিতল ভবনের ছাদে থাকা ফাস্ট ফুডের দোকান ও জলসাঘরে অবস্থানকালে ইয়াকুব পালের সঙ্গে হুমায়ুন ও তার সহযোগী তুহিনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, পরে হুমায়ুনের স্বজন অনিক খান কয়েকজনকে নিয়ে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইয়াকুবের ওপর হামলা চালান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইয়াকুবের সমর্থকেরা হুমায়ুনের জলসাঘর, ফাস্ট ফুডের দোকান এবং সামসু মাস্টারপাড়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হুমায়ুনের স্ত্রী মারুফা আক্তার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এদিকে, ইয়াকুবের বড় ভাই শহীদ পাল দাবি করেছেন, বাড়ি কেনাবেচা ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে অপর পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের করা পৃথক দুটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
