নিজ সংবাদ:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। এই কাঠামোর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।
সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়া এবং বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে দেশের আর্থিক সক্ষমতা, ভাতা কাঠামো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে দুটি প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথম প্রস্তাবে সব গ্রেডের মূল বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেসিক বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্ন আয়ের কর্মীদের মূল বেতন দ্বিগুণ বা শতভাগ বৃদ্ধির সুযোগ থাকতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মতে, মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ এই শ্রেণির কর্মচারীদের ওপর পড়েছে।
যদিও নতুন পে-স্কেলের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে, তবুও ১ জুলাই থেকে বেতন কাঠামো কার্যকর ধরে আর্থিক সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশ হলে চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সুবিধা একসঙ্গে পেতে পারেন।
আগামী বাজেট অধিবেশনে নবম পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
