নিজ সংবাদ:
কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন—এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পরবর্তীতে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া।
শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা এবং দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরে বিষয়টি জানতে প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে ফোন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই ফোনালাপের অডিও পরে সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেন তিনি। প্রায় এক মিনিটের ওই কথোপকথনে মোস্তাক মিয়া স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেননি। তার বক্তব্যের অর্থ ছিল, সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফোনালাপে তিনি বলেন, “আপনি টাকা খেয়েছেন—এ কথা আমি বলিনি। আমি বলতে চেয়েছি, উন্নয়ন কাজের জন্য আপনার এলাকায় বরাদ্দ গেছে।”
এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহও জানান, এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ, যা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, দেবিদ্বার উপজেলার ৪২টি প্রকল্পে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, প্রশাসক মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, তার বক্তব্য গণমাধ্যমে আংশিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে মাত্র দুটি উপজেলায় বড় অঙ্কের বরাদ্দ যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরতেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
