যে পথে ঈদের আনন্দ ছিল, সে পথেই সর্বস্ব হারালেন সুজন

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

নরসিংদীর এক দিনমজুর সুজন মিয়া। সকাল থেকে ইট-বালি বহন করে যে টাকা জমান, তা দিয়েই স্ত্রী সাথী বেগম আর দুই সন্তানের সংসার। ২৭ মে, ঈদের আগের দিন। ছোট্ট সামিয়া আর ১৮ মাসের সাফওয়ানের জন্য নতুন কাপড়ের আবদার। সুজন বললেন, “চলো, আজ সবার জন্য কিছু কিনে আনি।”

সন্ধ্যায় কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথ। নরসিংদী স্টেশনে রেললাইন পার হতে হবে। হঠাৎ দ্রুতগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস। এক মুহূর্তে সবকিছু শেষ। স্ত্রী সাথী আর কোলের সাফওয়ান—দুজনেই নিথর।

কেউ হাত বাড়ালো না। সুজন নিজেই স্ত্রীর লাশ কাঁধে তুললেন। বুকে জড়িয়ে ধরলেন মৃত সন্তানকে। পাশে দাঁড়িয়ে কান্নারত মেয়ে সামিয়া বাবার হাত ধরে আছে।

এই ছবি বলে দেয়—একজন পুরুষ শুধু শক্তিতে নয়, সহনশীলতায়ও বিশাল। যখন পৃথিবী ভেঙে পড়ে, তখনও সে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ তার কাঁধে শুধু দায়িত্ব নয়, ভালোবাসার বোঝাও। কেউ পাশে না থাকলেও, সে একাই সামলায়।

সুজনের চোখে জল, কাঁধে স্ত্রীর লাশ, বুকে সন্তানের নিথর দেহ—এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেয়, একজন পুরুষ কখনো কাঁদে না বলে যারা বলে, তারা জানে না—পুরুষ শুধু নীরবে সব বহন করে চলে।