নিজ সংবাদ:
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্লাস্টিকের পণ্যের বিনিময়ে চুল, ভাঙা মুঠোফোনসহ নানা জিনিস সংগ্রহ করতেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়নের ১০ ফেরিওয়ালা। ঈদকে সামনে রেখে কয়েকদিনের উপার্জন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে তাঁদেরসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে একই গ্রামের সাতজন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া, বাদশা মিয়া, আবদুল বারিক, সোহাগ হোসেন, রবিউল ইসলাম, মাইনুর ইসলাম ও সাগর হোসেন। এছাড়া পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান ও গিয়াস উদ্দিন এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী নিহত হন।
দুপুরে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি বিলাপ করে বলেন, মেয়ের জন্য খেলনা নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর স্বামীর।
নিহত মাইনুর ইসলামের স্বজনরা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, এখন পর্যন্ত মান্দা উপজেলার ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে পুলিশ কাজ করছে।
