এসপিসহ ৮ জনের বিচার শুরু, সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ জুন

‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটকে পঙ্গু করার অভিযোগ

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

যশোরের চৌগাছায় ২০১৬ সালে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা সাজিয়ে গুলি ও নির্যাতনের মাধ্যমে পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ১৬ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

সোমবার (১ জুন) ট্রাইব্যুনালে মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি পিছিয়ে নতুন এ দিন ধার্য করেন।

মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন তৎকালীন যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। সে সময় গ্রেপ্তার আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়। পরে আদালতে হাজির না করে টানা দুই রাত নির্যাতনের পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে তাদের পায়ে গুলি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত দুই নেতারই পা কেটে ফেলতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।