চাই জাতীয় ঐক্য ও কঠোর পদক্ষেপ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে নিষ্ক্রিয় দেখা গেলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভেতরে-ভেতরে অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে পত্রিকার খবরে প্রকাশ-ভারতে অবস্থানরত দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার ছক কষছেন। স্বাভাবিকভাবেই এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন জাতির জন্য এক গুরুতর উদ্বেগের বার্তা বহন করে। প্রতীয়মান হয়, চব্বিশের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, তাকে নস্যাৎ করতেই অপশক্তি ও উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে অপতৎপরতার যে ছক আঁকা হচ্ছে, তা কেবল সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি নয়, বরং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকেও এক নাজুক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়ার অপকৌশল। বলা বাহুল্য, পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হওয়া, আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং ছদ্মবেশ ধারণ করে গোপন তহবিল গঠনের চেষ্টা-দেশকে অস্থিতিশীল করারই এক গভীর নকশা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা নব্য জেএমবির মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান এবং বোমা তৈরির কারিগরদের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বাড়তি হুমকি তৈরি করেছে। এহেন সংকটময় পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি আমরা। পুলিশ প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে যেন কোনো শিথিলতা বা কোনো নির্দিষ্ট অপশক্তির প্রতি গোপন আনুগত্য বিরাজ না করে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও জোরদার করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, জননিরাপত্তা সুসংহত রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব কেবল প্রশাসনের একার নয়। জুলাই-আগস্টের গণহত্যার কথা মাথায় রেখে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যে কোনো উপায়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার এহেন অপকৌশলকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও রুখে দিতে হবে। পরাজিত বা বিচ্ছিন্ন কোনো শক্তি যেন সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে ভীতি ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনিক কঠোরতা ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত প্রয়োগ ঘটানো দরকার। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের উচিত জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি ও ভীতি দূর করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আসল অপরাধীদের শনাক্ত করা। রাজনৈতিক উত্তাপ বা উগ্রবাদের আড়ালে যেসব অপশক্তি অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ষড়যন্ত্রকারীদের বিশৃঙ্খলা ও ভয়ভীতি দেখানোর কৌশলকে ব্যর্থ করতে হলে আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকার দেশকে যে কোনো বড় ধরনের নাশকতার হাত থেকে রক্ষা করবে, এটাই প্রত্যাশা।