নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একটি পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়িসহ গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দুজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদা-খাদিমপুর গ্রামে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা গুদাম ও সংলগ্ন বসতবাড়িকে গ্রাস করে নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও গুদামে মজুত থাকা পাটসহ বসতবাড়ির নানা মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ মন্টু জানান, “আগুনের সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত গুদামঘরে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। সেই সময় আমি নিজেও আগুনে কিছুটা পুড়ে যাই।” তাঁর কণ্ঠে ছিল যন্ত্রণা ও উদ্বেগের ছাপ। আগুনের তীব্রতা এমন ছিল যে, চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠেছিল এবং ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ছেয়ে গিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতা বা হিংসার জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখে তাঁরা ছুটে এসেছিলেন। অনেকেই বালতি ও ড্রামে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের প্রকোপ এতটাই তীব্র ছিল যে, সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাটের গুদাম ও বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম বিপাকে পড়েছে। আহত দুজনের চিকিৎসা চলছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত করে আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। রাতের এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ড এলাকাবাসীর মনে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার ছাপ রেখে গেছে।
