স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বোরো ধান সংগ্রহ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

 

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের শুরুতে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন উপজেলা প্রশাসন। তাদেরকে বিতর্কিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছিল। এ থেকে বেরিয়ে আসতে লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করে উপজেলা প্রশাসন। ধান সংগ্রহের পরিমানের চেয়ে কৃষকের সংখ্যা বেশী হওয়ায় লটারী পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা প্রশাসন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি কৃষকের কাছ থেকে দুই টন করে ধান সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ ধান ১১৫০ থেকে ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, সরকারিভাবে ১৪৪০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করলে সাধারণ কৃষকরা মণ প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করার সুযোগ হবে। এই বাড়তি আয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না প্রান্তিক কৃষকরা। লটারি অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরীফ হাসান সোহাগ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও কৃষক প্রতিনিধিরা। প্রসঙ্গত, ধান সংগ্রহের তালিকা প্রণয়ন নিয়ে এর আগে কিছু অসাধু মহলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ছিল, লটারি বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকৃত কৃষকদের অধিকার হরণের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়ে। অনিয়ম রোধে এবং প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন লটারি পদ্ধতির আশ্রয় নেয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্তি ও লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের ফলে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। লটারি কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার ফলে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পেয়ে লাভবান হবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।