মানবতার সেবায় নিবেদিত বনলতা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক তসলিমা শিল্পী

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

কোহিনুর ইসলাম \ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা কচিকাঁচা মিলনায়তনে গত ১৩ জুন শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান। চিকিৎসা ও মানবতার সেবায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বনলতা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডা. তসলিমা শিল্পী এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এই অর্জন শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং সমাজের অসহায়, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দীর্ঘদিনের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। কুষ্টিয়ায় সমাজসেবা, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন তসলিমা শিল্পী। পেশায় তিনি একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গার্ডিয়ান লাইফের ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে ডেপুটি রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো মানবসেবার প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তার প্রতিষ্ঠিত বনলতা মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটির উদ্যোগে নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়, যেখানে দরিদ্র শিশু ও তাদের পরিবার চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। তসলিমা শিল্পীর বিশ্বাস, একটি শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। তার উদ্যোগে মঞ্চস্থ নাটকগুলো শিশু অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু শিশুদের কল্যাণেই নয়, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন হস্তশিল্প ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করছেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত এসব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বহু নারীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। নারী উন্নয়ন ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনি ‘রোকেয়া পদক শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননায় ভূষিত হন। সাম্প্রতিক ‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬’ অর্জন তার সেই গৌরবময় পথচলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডা. তসলিমা শিল্পী বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য মানবতার সেবা করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সমাজের অসহায় শিশু ও নারীদের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি চাই সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসুক।” মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তসলিমা শিল্পী আজ কুষ্টিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছেন।