নিজ সংবাদ \ কাক ডাকা ভোর থেকেই কুষ্টিয়া শহরের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ময়লার ভ্যান আসতে শুরু করে। পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন এই কম্পাউন্ডে দিনের পর দিন ময়লা ফেলার কারণে আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই সমস্যায় তীব্র দুর্গন্ধে দূষিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, “প্রচন্ড দুর্গন্ধে এখানে বসবাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এর আগে কখনো এখানে ময়লা ফেলতে দেখিনি। আবাসিক এলাকায় এভাবে ময়লা ফেলা জনগণের জন্য খুবই অসুবিধাজনক।” রিকশাচালক আফজাল হোসেন বলেন, “ময়লাগুলো অনেকদিন পৌরসভার ভেতরে রাখা হয়। ফলে দুর্গন্ধে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একবারে ভাগাড়ে নিয়ে ফেললে এই সমস্যা হতো না।” আরেক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, “১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। অনেক সময় মুখে গামছা বেঁধে কাজ চালাতে হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ সমাধান না করলে এখানে কাজ করা অসম্ভব।” পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শহরের ময়লা ফেলার জায়গা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জনবসতির বাইরে অস্থায়ীভাবে ময়লা রাখার উপযুক্ত জায়গার অভাবে বাধ্য হয়ে নিজস্ব কার্যালয় প্রাঙ্গণেই ময়লা রাখতে হচ্ছে। কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “আগের জায়গাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন যেখানেই ময়লা নেওয়া হচ্ছে, সেখানেই অভিযোগ উঠছে। তবে আমরা সরাসরি ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। বিশেষ ভ্যান তৈরির কাজ চলছে। ভ্যানগুলো এলে দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।” গত কয়েক মাসে তিনজন প্রশাসক বদল হলেও কুষ্টিয়ার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখনো অগোছালো। নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে কবে তারা দেখতে পাবেন একটি পরিকল্পিত ও জনবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
