কুষ্টিয়ায় কর বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন

প্রক্সি দিতে এসে ৪ প্রতারক কারাগারে

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ কুষ্টিয়া কর অঞ্চল কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদের মৌখিক পরীক্ষায় অন্য প্রার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে গিয়ে ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন তাদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রক্সির প্রমাণ পায়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ সংলগ্ন কর অঞ্চল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজনের প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি এবং অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ে ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রক্সি দেওয়ার কথা স্বীকার করে। আটককৃতরা হলেন-চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে খালিদ বিন ওয়ালিদ (২৫), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুরের হান্নান আলীর ছেলে মুন্না ইসলাম (২৩), একই উপজেলার তারাগুনিয়ার ইলিয়াস হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২৪) এবং বড়গাংদিয়ার আতিয়ার রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন।

গতকাল বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, “ভাইভা চলাকালীন কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করে যে চারজন অসদুপায় অবলম্বন করেছে। তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশের ধারণা, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি চক্র এই প্রক্সি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর অঞ্চল কুষ্টিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ মে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্য থেকে ছয়টি পদে মোট ১২২ জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৭ মে থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ১৯ জুন অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং মঙ্গলবার (২৩ জুন) ছিলো মৌখিক পরীক্ষা। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের কমিশনারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সারাদিন অপেক্ষার পরও কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ঘটনাটি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে প্রশাসনের তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। কেউ কেউ বলছেন, এমন ঘটনা সাধারণ প্রার্থীদের মনে হতাশা তৈরি করে। সম্প্রতি বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি ও জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নজরদারি, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো উচিত। কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের এ ঘটনায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।