নিজ সংবাদ \ দাবার ছকে মেধা, কৌশল আর ধৈর্যের লড়াই শেষে কুষ্টিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে ড. কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা। দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে থেকে অংশ নেন রেটেড উদীয়মান দাবাড়ুরা। এ প্রতিযোগীতায় ১২৬ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেছিলেন। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা ক্রীড়া অফিসার তানভীর হোসেন। কুষ্টিয়া এসিপিবির আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিটি রাউন্ডে ছিল টানটান উত্তেজনা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন, কুষ্টিয়া এসিপিবির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজু, সাধারণ সম্পাদক মুহায়মেনুল ইসলাম খোকন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর আলম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুল গাফফার। প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়াতে ক্রীড়া অঙ্গনে আবারো মুখরিত করতে পারি। দাবা আভিজাত শ্রেণীর খেলা। ধর্য্য সহকারে খেলতে হয়। সবার ধর্য্য আসে না। মেধা বিকাশের আলামত দাবা খেলা। দাবার মধ্যে যে আবির্ভাবটা আছে, সংসার, সামাজিক বলেন দাবার চাল একটা আলাদা জিনিস। এটা যদি কেউ ভূল করে তাহলে দাবা আমাদের সেটা শিখিয়ে দেয়। আর যদি সঠিক চাল দেওয়া যায়, জীবনে সর্বক্ষেত্রে সঠিক চাল দিলে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়। দাবার মূল যে বার্তা সেটা বেশি বেশি আলোচনায় এনে জানান দিতে হবে, কোন আবেগে বা ভূলে ভূল চাল কখনো দিবো না। সেটা ব্যবসা বানিজ্যে হোক, চাকরি বা খেলার ক্ষেত্রে বলেন সব ক্ষেত্রে বুঝে শুনে এগিয়ে যেতে হবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা সবাই জানি উপ মহাদেশে দাবার একটা ঐতিহ্য আছে। এই দাবা খেলার সৃষ্টি হয়েছিলো আমাদের উপ মহাদেশে। এখন থেকে দেড় হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূচনা হয়। আমাদের পাশের দেশ ভারত দাবা খেলায় ভালো করছে। উপমহাদেশে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো মুর্শেদ। তারপরে কিন্তু আমরা সফলতা পায়নি। এই খেলাটার চর্চা না থাকায় আমাদের দেশে চ্যাম্পিয়নের সংখ্যা বাড়ছে না। কুষ্টিয়ার সন্তান ড. কাজী মোতাহার হোসেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন পাচ বার। উনি অল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ৩১ বার। আমরা কিন্তু কুষ্টিয়ার মানুষ সেটা জানি না। এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে তরুন প্রজন্ম যুব সমাজ ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও দাবা খেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, দাবা এমন একটি খেলা, যেটা কখনো একভাবে শেষ হয় না। দাবার এতো বেশি কম্পিটিশন আছে, যেটা শেষ করতে অনেক সময় লাগে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি মেধা বিকাশ ও কৌশলগত চিন্তার অন্যতম মাধ্যম। এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা তরুণদের দাবার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং নতুন প্রতিভা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। পরে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
