কুষ্টিয়ায় বকেয়া টাকা চাওয়ায় হোটেল মালিক-কর্মচারীদের উপর নৃশংস হামলা

দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

শফিকুর রহমান \ কুষ্টিয়া শহরের কলেজ মোড়ে একটি হোটেলে খাবারের বিল বকেয়া রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে মালিক ও কর্মচারীদের উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে লাল্টু ভাইয়ের খাবার হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি হোটেল মালিকের পায়ে গরম তেল ঢেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ফার্মেসিসহ আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা সাইফুজ্জামান সাব্বু জানান, “হোটেল ব্যবসায়ী লাল্টুর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। সে এবং তার দোকানের এক কর্মচারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এই হামলার প্রতিবাদে কলেজ মোড় দোকান মালিক সমিতি দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে। দোকানপাটে সন্ত্রাসী হামলা চালানো কোনো ভালো লক্ষণ নয়।”

হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এলাকার অপর এক হোটেলের মালিক রাহুল ও তার ভাই মুন্না নিয়মিত খাবার খেয়ে বিল পরিশোধ করতেন না। শুক্রবার সকালেও রাহুল নাস্তা করে বিল বাকি রাখেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে বেলা ৩টার দিকে রাহুল, মুন্নাসহ মুখোশধারী কয়েকজন হোটেলে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কর্মচারীদের কুপিয়ে আহত করে। মালিক লাল্টু প্রতিবাদ করলে তার পায়ে কড়াইয়ের গরম তেল ঢেলে দেওয়া হয়। হোটেলের কর্মচারী সোহেল বলেন, “সকালে বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে বিকেলে তারা ডাসা দিয়ে কোপায়।” হোটেল মালিক লাল্টু হাসপাতালে শুয়ে জানান, “ওরা বাকি খেয়ে টাকা দিত না। শুক্রবার সকালে রুটি, পরোটা ও ডিমভাজি খেয়ে চলে যাওয়ার সময় টাকা চাইলে কিছুক্ষণ পর টাকা ছুড়ে মেরে চলে যায়। পরে আবার এসে আমাকে ও কর্মচারীদের কোপানোর চেষ্টা করে। আমাকে গরম তেলের মধ্যে ফেলে দেয়।” ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কলেজ মোড়ের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ করেন। কলেজ মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক উজ্বল বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজির শিকার হই। হামলাকারীরা সবসময় চাঁদা নেয়। এই ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।” কুষ্টিয়া মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে এসেছি। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও এলাকাবাসী কলেজ মোড়ে নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন তারা।