কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বাধা প্রদান এবং ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলার অভিযোগের থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টার পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে এক বিএনপি নেতাসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৫ থেকে ৭ জনকে। এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন – মো. জাহাঙ্গীর আলম জিলাল (৪৮)। তিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুমারখালী ছালপট্টি বাজার মালিক সমিতির সভাপতি। অপরজন হলেন সদকী ইউনিয়নের মালিয়াট গ্রামের হাকিম প্রামাণিকের ছেলে ও ভূসিমালের ব্যবসায়ী জিলাল প্রামাণিক ( ৪৭)। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে এতথ্য নিশ্চিত করেছে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন। তবে এবিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি মামলার বাদী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, হামলা নয়, তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী ষ্টেশনবাজার সংলগ্ন ছালপট্টি বাজারে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের একটি দল। অভিযানে দোকানে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পশুখাদ্য রাখার অপরাধে খোকন ট্রেডার্সের মালিক সাইদুল ইসলাম খোকনকে ৪ হাজার টাকা এবং প্রণব ট্রেডার্স মালিক প্রণব কুমার ঘোষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেন। আদালত পরিচালনায় সহযোগীতা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন ও কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের সদস্যরা। এ সময় আসামিরা সংবদ্ধ হয়ে আদালত পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেন এবং বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাঁরা প্রথমে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কিলঘুষি মেরে আহত করে সটকে পড়েন। এ ঘটনায় রাত ১২টার পরে কুমারখালী থানায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হামলার অভিযোগে মামলা করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘একটা মামলা হয়েছে। তবে আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছিনা। আপনি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলুন।’ জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইনা। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্যার দেখছেন। আপনি তাঁর সঙ্গে কথা বলুন।’ আর এবিষয়ে কিছুই জানা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল বুধবার বিকেলে ছালপট্টি বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, অনেকটা সুনসান নিরাবতা। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দোকানে আসেননি বাজার কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম জিলাল। তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। জরিমানা গুণা ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘ছালের বস্তায় মেয়াদ না থাকায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। জরিমানা দিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। পরে কি হয়ছে তা জানা নেই। এসব নিয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছিনা।’ জরিমানা গুণা অপর ব্যবসায়ী প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল তা পরিশোধ করেছি। কোনো হামলা, হাতাহাতি বা মারামারি হয়নি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল মাত্র।’ কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান ও হামলার অভিযোগে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার গভীর ততন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
