জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড

কুষ্টিয়ার ৬ হত্যা মামলার রায়

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ \ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সম্প্রচারিত হয়। এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায়। মামলায় হাসানুল হক ইনুই একমাত্র আসামি। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশন জানায়, তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ হয় ১ ডিসেম্বর। প্রসিকিউশন ১০ জন সাক্ষী হাজির করে এবং আসামিপক্ষ দুজন সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করে। যুক্তিতর্ক শুরু হয় চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে। ২২ জুন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে। রায়ে বর্ণিত অভিযোগগুলো জুলাই আন্দোলনের সময় ইনুর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যায়িত করেন ইনু। তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ, প্ররোচনা ও হত্যার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ। দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪-দলীয় জোটের সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘শুট অ্যাট সাইট’ নীতি গ্রহণে ইনু উপস্থিত ছিলেন এবং এর বাস্তবায়নে নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তা করেন। তৃতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে আন্দোলনকারীদের তালিকা প্রণয়ন, আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ অভিযোগে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টার থেকে বম্বিংয়ের পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ও সরকারের হত্যাকান্ডকে সমর্থনের অভিযোগ। ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪-দলীয় সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ। সপ্তম অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ততা। অষ্টম ও সর্বশেষ অভিযোগে কুষ্টিয়ায় ছয় আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যার নির্দেশ এবং সারাদেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষ হত্যা ও ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ রায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ট্রাইব্যুনালের এ সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে কোনো ধরনের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ মামলার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ট্রাইব্যুনালের দৃঢ় অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।