ভেড়ামারায় রেলওয়ের পুকুর ভরাট করে দোকান নির্মাণ

লিজের নামে লুটপাট ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

মাহমুদুল হাসান চন্দন \ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা কলেজ বাজার গম পট্টির পেছনে অবস্থিত রেলওয়ের একটি সরকারি পুকুর ভরাট করে অবৈধভাবে দোকান ঘর নির্মাণ ও জমি দখলের মহোৎসব চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী সুবিধাভোগী নেতা এই দখলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুকুরটির একটি অংশ ইতিমধ্যে ভরাট করে পাকা দোকান ঘর তৈরি করা হয়েছে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে সম্প্রতি পুরো পুকুরটি ভরাট করার প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। তবে প্রশাসন চলে যাওয়ার পর আবারও গোপনে ভরাট কাজ সচল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এভাবে একটি সরকারি পুকুর ভরাট করা অসম্ভব। দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কাগজে-কলমে বাণিজ্যিক লিজের বৈধ নথিপত্র দেখালেও, স্থানীয়দের দাবি—বাণিজ্যিক লিজের আড়ালে এখানে মূলত রেলের সম্পত্তি লুটপাট ও জলাশয় ভরাটের মতো পরিবেশবিরোধী অপরাধ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখি এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। রেল কর্তৃপক্ষের এই রহস্যজনক নীরবতা ও উদাসীনতা প্রমাণ করে যে, এই অনিয়মের সঙ্গে বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তাদের গভীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ভেড়ামারা পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান, এভাবে শহরের ভেতরের একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি পুকুর ভরাট হয়ে গেলে একদিকে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে, অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে পানি সংকটে পড়বে পুরো বাজার এলাকা। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং রেলওয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে ভেড়ামারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমরা যখনই জানতে পেরেছি সরকারি জায়গা ভরাট করে দোকান নির্মাণের কাজ চলছে আমরা তাৎক্ষণিক যেয়ে কাজ বন্ধ করে দেই।