শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

বুধবার, অক্টো ২৮, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিষয়টি বুঝতে হলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে একাধিকবার জানিয়েছেন যে প্রত্যার্পণের একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি বৈধতা জড়িত।

তিনি বলেন, প্রত্যার্পণসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলমান এবং এর সঙ্গে আদালতের বিষয়ও যুক্ত রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তাকে ভারতের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির কারণেই তিনি ভারতে পৌঁছান। তার ভাষ্য, ওই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে আসে এবং ভারত এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে যান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তৎকালীন বাস্তবতা বিবেচনা করে তাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ভারত যদি সেই সময় বিমানটির অবতরণের অনুমতি না দিত বা তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাত, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, তা বলা কঠিন। এটিই ওই সময়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

প্রত্যার্পণের বিষয়ে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং উভয় দেশেরই আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করা উচিত। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াই তার নিজস্ব নিয়মে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।