ইবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র হাতে ১৯ বহিরাগত শনাক্ত

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র হাতে থাকা ১৯ বহিরাগতকে শনাক্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার এসব ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এক ছাত্রদল নেতার হাতে ছাত্রশিবিরের এক নেতার থাপ্পড় খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকেলে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।

ভিডিও ও ছবিতে শনাক্ত ১৯ জনের মধ্যে বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন কর্মী, ছাত্রদল নেতা এবং স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে গেলেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেননি এবং তার হাতে অস্ত্র ছিল না।

ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদও বহিরাগত আনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ছাত্রদল কোনো বহিরাগত আনেনি; বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে আসতে পারে।

ইবি থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, অস্ত্রসহ বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।