কুষ্টিয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতার হামলা

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

নিজ সংবাদ \ চাহিদামতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) চালের কার্ড না পেয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের  সঙ্গে হাতাহাতি ও রামদা হাতে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের দিকে তেড়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের দাবি ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজ ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন। তার ভাষ্য, মুলত ভিজিএফ চালের কার্ডের একটি অংশ জামায়াত নেতাদেরকে দিতে বলায় এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরেই ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভিজিএফের চাল বিতরণের কার্ড ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। কয়েক দফায় বসেও সুরহা না হলে মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যানের সঙ্গে হাতাহাতির পর স্থানীয় বিএনপির নেতারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিষদ কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরিষদের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল, প্রচার সম্পাদক কনিজসহ বেশ কয়েকজন রামদা হাতে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী দিকে তেড়ে যায়। তাকে মারধর করে। এর আগের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠক চলাকালীন কয়েকজন চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে চেয়ারম্যানকে মারতে তেড়ে যায়। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদে ৬’শ ভিজিএফ চলের কার্ড পেয়েছি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা চান তাঁরাই সব কার্ড ভাগবাটোয়ারা করে নিবেন। যেহেতু স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা। এছাড়া এমপির প্রতিনিধি রয়েছেন। তাই তাদেরকে একশ কার্ড দিতে বলেছিলাম। গত মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার সময় তারা আমার দিকে তেড়ে আসেন। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে যাওয়ার পর বিএনপি নেতা আনিস মন্ডল, কনিজ, যুবদল নেতা নজরুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একটি প্রাইভেটকার ও মটরসাইকেলে এসে পরিষদে হামলা চালায়। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এ সময় রামদা নিয়ে তারা সচিবের দিকেও তেড়ে যায়। তাঁকে মারধর করে। নুরুল ইসলাম বলেন,এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ প্রশাসন থেকে তেমন কোন সহযোগিতা পাইনি। তাই মামলার বিষয়ে আপাতত ভাবছি না। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা হালিম সিদ্দিকী বলেন- ভিজিএফের কার্ড এসেছে ৬১৬টি। এর মধ্যে বিএনপি দাবি করে সাড়ে ৪’শ। তাদেরকে দেড়শ কার্ড নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি নেতারা জামায়াতকে কোন কার্ড দিতে দিবেন না। আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রেখেছিল। বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা পরবর্তী নির্দেশনা দিবেন। ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আনিসুজ্জামান বলেন, ভিজিএফ কার্ড নিয়ে বিএনপির লোকজন ঝামেলা করেছে। তবে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনিস মন্ডল  অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এতদিন পলাতক ছিলেন। গ্রামের একজন যুবককে বিদেশে পাঠানোর নাম করে ১০ লাখ টাকা নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না। সেই টাকার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়েছিল। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে হাতে রামদা নিয়ে সচিবের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন-এমন প্রশ্নে আনিস বলেন, ঠেকানোর জন্য আমি অন্য একজনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নিয়েছিলাম। তাই আমার হাতে দেখতে পেয়েছেন। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলেন, এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরাও তদন্ত করছি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষনিক ইউএনওকে যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।