দেশে প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অনেকে দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে সারা জীবন ক্ষত বয়ে বেড়ায়। অন্যদিকে দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল। শুক্রবার প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ২৪টি ট্রমা সেন্টার—সেগুলো আজ অচল হয়ে পড়ে আছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের করুণ দশাকেই সামনে আনে। ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা জরিপ ২০২২-২৩’-এর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, দেশে বছরে দুর্ঘটনা ও আঘাতজনিত কারণে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে মৃত্যুর প্রধান চার কারণ সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডোবা ও পুড়ে যাওয়া। এই চার কারণে প্রতিদিন গড়ে ২১১ জনের মৃত্যু হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে মারা যায় ২৪ হাজার ২৩৩ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মাথায় আঘাত কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। এই বাস্তবতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরো ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এসব কেন্দ্রের বেশির ভাগই নির্মাণের পর দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন ছিল। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চিকিৎসাকেন্দ্রে সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছে না কেন? এদিকে শনিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব ট্রমা দিবস। দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার মানুষের জীবন রক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতে দিবসটি পালিত হয়। আমাদের মতো দেশের প্রেক্ষাপটে এমন দিবস তাৎপর্যপূর্ণ। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম বলেন, সড়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে পথচারীরা অন্যতম। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রচের’ মূল দর্শন হলো মানুষ ভুল করলেও সেই ভুল যেন মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের কারণ না হয়। তাই সড়কের নকশা, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো অজানা নয়, কিন্তু সেগুলো দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না। এভাবে চলতে পারে না। বর্তমান সরকারের কাছে আরজি, সড়কে যেন আর কোনো প্রাণ না ঝরে, তা নিশ্চিত করুন।