আলামপুর বালিয়াপাড়া কলেজের খেলার মাঠ রক্ষায় সোচ্চার এলাকাবাসী 

শনিবার, সেপ্টে ১২, ২০২৬

 

 

 

তরিকুল ইসলাম \ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর বালিয়াপাড়া কলেজ মাঠ রক্ষায় এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে কলেজের মাঠ রক্ষায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি দীর্ঘদিন পর মাঠটি সংস্কার ও খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে মাঠে যানবাহন প্রবেশের সম্ভাবনা দেখা দিলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। এ অবস্থায় মাঠ রক্ষার দাবিতে স্থানীয় নারী-পুরুষ, তরুণ ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এটি তরুণদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা মাঠটি অনেক কষ্টে আবার খেলাধুলার উপযোগী করা হয়েছে। এখন যদি হাটের ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য ভারী যানবাহন মাঠে প্রবেশ করে, তাহলে মাঠের পরিবেশ ও খেলাধুলার উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে তরুণরা খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যেতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ৮ জুলাই আলামপুর বালিয়াপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বালিয়াপাড়া পশু হাটের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খেলার মাঠে পশু হাট বসানো যাবে না মর্মে সিদ্ধান্ত হলে পাশ্ববর্তী নির্ধারিত স্থানে হাট স্থানান্তর করা হয়। এরপর প্রায় ছয় বছর সেখানেই হাটের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

 

কিন্তু পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে গাড়ি রাখাসহ বিভিন্ন কাজে মাঠ ব্যবহার শুরু করে। এসময় মাঠের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও মাঠ ধীরে ধীরে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ২০০৯ সালে বর্তমান হাট ইজারাদার প্রথমবার ইজারা গ্রহণের পর থেকে মাঠের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যায়। অভিযোগ রয়েছে, গুটিকয়েক ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বালিয়াপাড়া পশু হাটের ইজারাদাররা মাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। এই সময়ে হানিফ-আতা’র ছত্রছায়ায় মিরপুর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হাজী ও তার লোকজন হাট নিয়ন্ত্রণ করে ৫ অগাস্ট পলায়ন করে। এই দীর্ঘ সময়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও নিজেদের খেলার মাঠ ফিরে পায়নি।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে বালিয়াপাড়া কলেজ মাঠ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে পুনরায় খেলাধুলার উপযোগী করে তোলে। কিন্তু চলতি বাংলা নববর্ষে সদর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হাটটির ইজারা নেওয়ার পর আবারও কলেজ মাঠ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বালিয়াপাড়া ও আশেপাশের গ্রামের এটি একমাত্র খেলার মাঠ। তাই মাঠ রক্ষায় স্থানীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ বিষয়ে সদর থানার ইউএনও’র সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এনে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও যুবদল সাধারণ সম্পাদক বিপ্লবের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ ও তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দল-মত নির্বিশেষে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ প্রশাসন ও ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠের প্রাচীর ভেঙে দখলের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বালিয়াপাড়া, কাঞ্চনপুর ও আলামপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ মাঠকে খেলার মাঠ হিসেবেই সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্তে অনড়। এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, প্রশাসনের এমন উদ্যোগের কারণে এলাকায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তারা অবিলম্বে মাঠ দখলের সকল উদ্যোগ বন্ধ করে খেলার মাঠ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক জানান, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন—কোনভাবেই স্কুল মাঠকে কোরবানির হাটের যানবাহন রাখার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কারণ মাঠ নষ্ট হলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

অন্যদিকে হাট ইজারাদার জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, বিষয়টি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। ইতোমধ্যে এ নিয়ে সমাধান হয়েছে এবং স্কুল মাঠ ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি দাবি করেন, কেউ কেউ ভুল তথ্য ছড়িয়ে তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা মনে করেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা তরুণদের সুস্থ বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলার মাঠ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।