দৌলতপুরে তামাক চাষের ফলে এবছর কমেছে ভুট্টার চাষ

নিজ সংবাদ:
অর্থকরী ফসল ও পশু খাদ্যের জন্য চাহিদা নির্ভর ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে ভুট্টার চাষ। অল্প পরিশ্রমে লাভ বেশী হওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিকর তামাক ছেড়ে ঝুঁকছেন ভুট্টার চাষে। তবে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় এবছর ভুট্টার চাষ কিছুটা কমেছে। এদিকে কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছরও ভুট্টার বাম্পার ফলন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কুষ্টিয়ায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমি বেশী। গতবছর দাম ভাল পাওয়ায় এবছরও বেড়েছে ভুট্টার চাষ। তবে বীজ, সার, তেল ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর বেড়েছে উৎপাদন খরচ। তারপরও বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হলেও ফলন হচ্ছে প্রতি বিঘায় ৪৫ থেকে ৫০ মন, যা থেকে লাভ হবে উৎপাদন খরচের কয়েকগুন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কৃষকদের তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে বোঝাতে সক্ষম হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে ভুট্টার চাষ। তবে তামাকের কারণে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় এবছর ভুট্টার চাষ কিছুটা কমলেও কৃষকদের প্রণোদনাসহ সবধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, দৌলতপুর উপজেলায় এবছর ৪ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে যা বিগত বছরের চেয়ে ৫৭ হেক্টর কম। বিঘাপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ মন ফলন হচ্ছে যা থেকে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকদের ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে মুখ ফেরাতে প্রয়োজন কৃষি বিভাগের তদারকি। এর পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে কৃষকের উৎপাদিত অর্থকরী ফসলের ন্যায্য মূল্য। এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।