প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, কেন্দ্রের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত জিলা স্কুলেই সমাবেশের প্রস্তুতি

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

বৃহস্পতিবার, অক্টো ২৯, ২০২৬

 

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠেই ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। জেলা প্রশাসনের দেওয়া অনুমতিপত্রে বিকল্প ভেন্যুর বিষয় উল্লেখ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি বলেছে, কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে তারা আগের অবস্থানেই থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল গফুর এমপি। সাংবাদিকদের সামনে তিনি আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ আয়োজনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এমপি আব্দুল গফুর বলেন, জেলা প্রশাসন তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই পুলিশ বিভাগের বিশেষ শাখার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো অনুমতিপত্রে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে তিনি পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয়? এই অনুমতি পত্রটি একটি বিশেষ দলের নেতাকে অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে যা নিন্দনীয় ও দলীয়করনের স্পষ্ট নিদর্শন। জেলা প্রশাসকের এই ধরনের দৃষ্টতা আমাদের অবাক করেছে। প্রশাসনিক শিষ্টাচারের বাইরে তিনি এই কাজটি কিভাবে করতে পারেন যা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি হয়তো কোন দলের নেতা ছিলেন? কিন্তু তিনিতো এখন কুষ্টিয়াবাসীর জেলা প্রশাসক। তিনি দলীয় করনের নজির সৃষ্টি করলেন তা ফ্যাসিষ্ট সরকারের আচরনের উদাহরন হতে পারে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, লংমার্চের দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশ হবে এবং তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতাও চান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, সমাপনী সমাবেশটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। তাই ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও কেন্দ্রীয়ভাবে নিতে হবে। কেন্দ্র থেকে পরিবর্তনের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তারা বর্তমান সিদ্ধান্তেই রয়েছেন। স্টেডিয়াম ও জিলা স্কুল মাঠ নিয়ে প্রচারপত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমে স্টেডিয়াম চাওয়া হলেও তখন অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে কেন বিকল্প সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে এমপি আব্দুল গফুর বলেন, তারা কোনোভাবেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি নন। জিলা স্কুল মাঠেই সমাবেশ আয়োজন করে লংমার্চের কর্মসূচি সফল করতে চান তারা। এসময় কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এনামুল হক, সাবেক সেক্রেটারী অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়াদ্দারসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মঙ্গলবাদ বাদ আসর লংমার্চকে স্বাগত জানিয়ে জেলা জাামায়াতের উদ্যোগে শহরে স্বাগত মিছিল বের হয়। কালেক্টরেট চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মজমপুর গেট হয়ে ৫রাস্তা মোড় হয়ে থানা মোড়ে সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এনামুল হক। তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ জনগনের প্রত্যাশা পুরনের লংমার্চ। আর এর সমাপনী অনুষ্ঠান কুষ্টিয়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গনেই হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।