দেশে ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাত বছরে শুধু স্কুলে যাতায়াতের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে দুই হাজার ৫১৩ জন শিশু। এই সময়ের মধ্যে সড়কে সর্বমোট মারা গেছে সাত হাজার ৯৬৩ জন শিশু। এর মধ্যে ৩১.৫৫ শতাংশই মারা গেছে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে। ভাবা যায়—দেশে সড়কের কী ভয়াবহ অবস্থা, কতটা অনিরাপদ! দেশে প্রতিদিনই সড়কে সাধারণ মানুষের প্রাণ ঝরছে। দুর্ঘটনায় কারো জীবন পথেই থেমে যায়, আবার কেউ বা হাত-পা হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়। এমন ঘটনা অগণিত। যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ বছরে দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন। আহত হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সড়কে প্রাণ গেছে চার হাজার ২২১ জনের। স্বভাবতই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, এই যে সড়কে প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, এর শেষ কোথায় আরো বড় বিষয় হলো, সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো আমাদের অজানা নয়। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামো, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টার অভাব, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতির বিষয়গুলোই সামনে আসে। গতকাল একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম চলে। ভুয়া তথ্য দিয়ে টাকার বিনিময়ে যে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে পারে। এ ছাড়া পরিবহনসংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ দপ্তরেই গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক যথার্থই বলেন, ‘রুট পারমিটের নামে ব্যানার বিক্রি চলছে।’ এর ফলে কী হচ্ছে দক্ষ চালক যেমন তৈরি হচ্ছে না, তেমনি যে কেউ চালকের আসনে বসার সুযোগ পাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আমরা মনে করি, সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। অনিয়ম বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জনসাধারণের সচেতন ভূমিকাই পারে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।