ফসলি জমি রক্ষায় আইন

বৃহস্পতিবার, অক্টো ১, ২০২৬

 

দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে খাদ্য চাহিদা। কিন্তু উল্টোদিকে প্রতিনিয়ত কমছে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ। জনবসতি সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন, শিল্প-কারখানা, সড়ক ও বাজার নির্মাণ, ইটভাটার মতো কর্মকান্ড প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে কৃষিজমি। এ পরিস্থিতিতে ফসলি জমি রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যা ইতিবাচক তো বটেই, সময়োপযোগীও। আমাদের মোট ভূমির প্রায় ৬০ শতাংশ আবাদযোগ্য। এই জমি রক্ষায় সরকার নতুন আইন করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা আইন, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে ভূমি ব্যবহার জোনিং, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, দুই বা ততোধিক ফসলি জমি সুরক্ষা, টপসয়েল অপসারণ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণের মতো বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আবাসন, উন্নয়নকাজ, শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন কারণে ভূমির প্রকৃতি ও শ্রেণি পরিবর্তন রোধে ব্যবস্থাও নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বছরে দুই বা ততোধিক ফসল উৎপাদিত হয়—এমন কৃষিজমিকে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এসব এলাকায় ভূমির ক্ষতি, ভূমিরূপ পরিবর্তন এবং কৃষি ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি আইন ভঙ্গ করলে রয়েছে শাস্তির বিধানও রয়েছে। নতুন আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কৃষিজমি রক্ষার দায়িত্ব শুধু জমির মালিক বা কৃষকের নয়; সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হয়েছে। আমাদের বাস্তবতা হলো, কোনো হিসাব-নিকাশ ছাড়াই কৃষিজমি নষ্ট করা হয়। জমির ওপরের যে অংশ বা টপসয়েল ইটভাটাসহ নানা কাজে নির্বিচারে কেটে নেওয়া হয়। কাজেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এসব জমি রক্ষায় আইনের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন যথার্থই বলেছেন, কৃষিজমি একবার অন্য স্থাপনায় পরিণত হলে সেটিকে আবার ফসলি জমিতে ফিরিয়ে আনা কঠিন। আর টপসয়েল হারানো জমির উৎপাদনক্ষমতা ফিরিয়ে আনাও সহজ নয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দেশের কৃষিজমি রক্ষা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা মন্ত্রীর এই কথার সফল বাস্তবায়ন দেখতে চাই। আবাদযোগ্য জমি সুরক্ষায় আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে। মনে রাখা দরকার, আমাদের মতো উর্বর জমি অনেক দেশেই নেই। কাজেই এই সম্পদের মূল্যায়ন জরুরি।