কোন অভিযোগে কার কী সাজা হলো ?

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

বৃহস্পতিবার, অক্টো ১, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে বিভিন্ন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। সাত আসামিই পলাতক।

ওবায়দুল কাদের: প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব কর্মকাণ্ডে তার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। রায়ে তাকে ১ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম: তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর হত্যা ও নির্যাতন চালানো এবং এতে নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা করা। ২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত: তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তা করা। ৩ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও ১ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ ফজলে শামস পরশ: তার বিরুদ্ধে যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশ, উসকানি ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। ১ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস, ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাইনুল হোসেন খান নিখিল: তার বিরুদ্ধে যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশ, উসকানি ও সহায়তার অভিযোগ ছিল। ১ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মো. সাদ্দাম হোসেন: তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে সারাদেশে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশ, উসকানি ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান: তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র কর্মীদের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতনে নির্দেশ, উসকানি, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। ১ ও ২ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব সম্পত্তি বিক্রির অর্থ থেকে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সময়ে নিহত ও আহতদের বা তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, অন্যান্য অমানবিক আচরণ, অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, উসকানি, ষড়যন্ত্র, সম্পৃক্ততা এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।