সম্রাট ইসলাম \ চিকিৎসা নিতে এসে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার প্রত্যাশা রোগী ও স্বজনদের। কিন্তু কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরের দৃশ্য যেন ভিন্ন কথা বলছে। কোথাও বাথরুমের পাইপ জ্যাম হয়ে উপচে পড়ছে পানি। কোথাও বেসিনে আটকে আছে খাবারের উচ্ছিষ্ট। শৌচাগারের মেঝে, বেসিন আর আশপাশে ছড়িয়ে আছে ময়লা ও পান-সিগারেটের পিক। অনেক বাথরুমই অচল বা ব্যবহারের অনুপযোগী বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন জানান, “বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। সুস্থতার জন্য চিকিৎসা নিতে এসে বরং আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে।” আরেক রোগীর এক নারী স্বজন বলেন, “পুরুষ-মহিলার জন্য একটাই বাথরুম। যেখানে আলাদা বাথরুম হওয়ার দরকার ছিল। এই পরিবেশে বিশেষ করে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়বে।” শুধু বাথরুম নয়, হাসপাতাল ভবনের আশপাশের ড্রেনেও জমে আছে কালো পানি ও আবর্জনা। খোলা মুখের ডাস্টবিনে পচা খাবার, ভাত-তরকারিসহ নানা বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে ওয়াশরুমের ভেতরেই। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিষ্কার, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং তদারকির অভাবেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। ব্যবহারবিধি না থাকায় অনেকেই বেসিন ও শৌচাগারে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমন চিত্র দেখা গেছে। অথচ সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর দাবি করেছে। সারা দেশে গতকাল থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর লক্ষ্য এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। এই জাতীয় কর্মসূচির দিনেও হাসপাতালে এমন অপরিচ্ছন্নতা রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আকুল উদ্দিন জানান, “ময়লা তো নিয়মিতই হচ্ছে। এই ময়লা নিয়মিত পরিষ্কারও করা হচ্ছে। আসলে আমাদের যে পরিমাণে পরিচ্ছন্নতা কর্মী দরকার, তার চারভাগের এক ভাগ রয়েছে। ১০০ জনের জায়গায় আমাদের জনবল রয়েছে ২৫ জন। তবে এই সীমিত জনবল নিয়ে প্রতিনিয়তই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ চলমান রয়েছে।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকট রয়েছে এবং সব পদে নিয়োগ হয়নি। তবে নতুন এই হাসপাতালের প্রতিটি বাথরুম সচল রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার এবং ড্রেনের ময়লা অপসারণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চান ভুক্তভোগীরা। মানুষ সুস্থ হতে আসে হাসপাতালে। সেই হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন না থাকলে রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই শুধু এক দিনের অভিযান নয়—প্রতিদিনের পরিষ্কার, তদারকি ও সচেতনতাই এখন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান দাবি।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপরিচ্ছন্নতা
জনবল সংকটের দাবি হাসপাতাল প্রশাসনের

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬