পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর রুল খারিজ

নিরাপত্তা আদেশের অপব্যবহারের অভিযোগ

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

নিজ সংবাদ:

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরাপত্তা চেয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলায় দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণামূলকভাবে সুবিধা নিয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য জানান। এর আগে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুল রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবিরসহ অন্যরা। রিটকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রবাসীদের অর্থায়নে ঢাকার পূর্বাচলে আবাসন ব্যবসার উদ্দেশ্যে ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড নিবন্ধিত হয়। ২০১১ সালে প্রকল্পের নিরাপত্তা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা রোধে রূপগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চার মাস নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, চার মাসের ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পরবর্তী সময়ে বারবার বাড়িয়ে প্রায় ১৫ বছর ব্যবহার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, প্রকল্পটির আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিদুর রহমান ২০২৪ সালের একটি মামলায় আসামি হওয়া সত্ত্বেও হাইকোর্টের পুরোনো আদেশ ব্যবহার করে নিরাপত্তা সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া জাল নথির মাধ্যমে কৃষকদের জমি দখল এবং রিটের আদেশ ব্যবহার করে স্থানীয় জমির মালিকদের হয়রানির অভিযোগও আদালতে তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন।