কুমারখালী প্রতিনিধি \ বাতাসে পঁচা দূর্গন্ত। কাপড় দিয়ে নাক- মুখ চেপে ধরে আছেন কয়েক’শ নানাবয়সি মানুষ। তাঁদের থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পড়ে আছে অর্ধগলিত মরদেহ। মুখে মাস্ক এবং হাতে সাদা গ্লোবস পড়ে থানার ওসি জামাল উদ্দিন কখনও মরদেহে ঢালছেন কেরোসিন তেল, আবার কখনও কম্বল দিয়ে মরদেহটি জড়াচ্ছেন। আবার কখনও প্যাকেট করছেন। এতে সহযোগীতা একজন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। আবার ওসি নিজেই মরদেহটির প্যাকেট ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড় সাঁওতা গ্রামে গতকাল বুধবার বিকেলে সরেজমিন এমন দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৩টার দিকে সড়কের ধারের মরা কালিগঙ্গা নদীতে বাদশা সেখ (৪০) নামের এক নৈশ্যপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও স্বজনদের খবর দেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটির উদ্ধার কাজ শুরু করেন। বাদশা চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা গ্রামের মৃত আফতাপ শেখের ছেলে। তিনি কালিগঙ্গা নদীতে রাতে মাছ পাহাড়ার কাজ করছেন। এসময় স্থানীয় কৃষক আমান উল্লাহ বলেন, নৈশ্যপ্রহরী বাদশার পচাঁ- গলা মরদেহ পাওয়া গেছে। দুর্গন্ধে টিকা যাচ্ছেনা। স্বজন, এলাকাবাসী ও পুলিশের সদস্যরা কেউ মরদেহের কাছে যাচ্ছেনা। ওসি সাহেব নিজেই সব করছেন। বিষয়টি একদিকে দুঃখজনক, অন্যদিকে মহৎ কাজ। স্বজনদের ভাষ্য, গত পাঁচদিন ধরে বাদশা নদী থেকে বাড়িতে যাননি। সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর আজ বিকেলে মরা কালিগঙ্গায় স্থানীয় এক নারী ঘাঁস কাটতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পূর্বশত্রুতার চেরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করেছে।
স্ত্রী সালমা খাতুন আহাজারি করতে করতে বলেন, রাতে নদীতে মাছ পাহাড়া দিত। কয়েকদিন পর পর বাড়ি যেত। কিন্তু গত পাঁচদিন ধরে তিনি ( বাদশা) বাড়িতে যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। প্রায় ৫ দিন, ৭দিন, কখনও একমাস পরপর বাড়ি যেত। সেজন্য থানায় জানায়নি।’ তাঁর ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এর সঠিক বিচার চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, বাদশা নদীতে মাছ পাহাড়া দিত। মাঝেমধ্যে হারা যেত। এখন কিভাবে কি হলো তা আল্লাহ ভালো জানেন। পুলিশ তদন্ত করুক। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ দুনিয়াদারি নিয়ে কত পরিকল্পনা করে। বাড়ি, গাড়ি সম্পদ করে। একে অপরের সাথে হিংসা, বিদ্বেষ ও মারামারিতে জড়াচ্ছে। অথচ আজ বাদশার মরদেহটি ধরার জন্য ছেলে, ভাই, আত্মীয় – স্বজন, এলাকাবাসী কেউ এলোনা। তিনি আরও বাদশা নামের এক নৈশ্যপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি গলিত হওয়ায় আঘাতের ক্ষত আছে কি না তা বুঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
