॥ মনজুর এহসান চৌধুরী ॥
প্রায় এক শতাব্দীর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন মুহূর্ত এর আগে কখনও দেখা যায়নি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পুরুষদের ফুটবলে প্রথমবারের মতো ফিফা র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠেছে। বর্তমান র্যাংকিং অনুযায়ী ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডÑএই চার পরাশক্তি দেশের উপস্থিতি শেষ চারে বিশ্বকাপকে নিয়ে গেছে এক নতুন উচ্চতায়। ফলাফল যা-ই হোক, এই সমীকরণ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।
সাধারণভাবে বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের টুর্নামেন্ট। গ্রুপ পর্বে ছিটকে যাওয়া, নকআউটে হোঁচট খাওয়াÑবড় দলের বিপর্যয়ের গল্পই যেন বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ বাড়ায়। র্যাংকিং টেবিলে সেরা হলেও, চাপের ম্যাচে বহুবারই বড় দলগুলো আগেই বাড়ি ফিরেছে। কিন্তু ২০২৬ আসরে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। শীর্ষ চার দল শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ম্যাচ টেনে নিয়েছে নিজেদের দিকে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে। এতে একদিকে র্যাংকিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা আরও জোরালো হয়েছে, অন্যদিকে ফুটবল মানের দিক থেকে সেরা বনাম সেরার লড়াই নিশ্চিত হয়েছে।
এই সমীকরণ তৈরিতে টুর্নামেন্ট কাঠামোর প্রভাবও অস্বীকার করা যায় না। নতুন ড্র-ব্যবস্থায় শীর্ষ র্যাংকিং দলগুলোকে আলাদা ব্র্যাকেটে রাখায়, গ্রুপ ও নকআউটের প্রথম দিকে বড় দলগুলোর নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অনেকেই এই নীতিকে “টপ টিম প্রোটেকশন” হিসেবে দেখছেন, যা একদিকে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয়, কারণ শেষ ভাগে হাই-প্রোফাইল ম্যাচ নিশ্চিত থাকে; অন্যদিকে ছোট ও মধ্যমানের দলগুলোর জন্য কিছুটা কঠিন বাস্তবতা তৈরি করে। তবুও মাঠের বাস্তবতায় শেষ কথা বলেছে পারফরম্যান্সইÑকারণ র্যাংকিং যতই উঁচু হোক, জয় না পেলে সেমিফাইনালের দরজা খুলত না।
ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সেমিফাইনাল একেবারে স্বপ্নের। ফ্রান্সের স্কোয়াড ডেপথ ও অ্যাথলেটিসিজম, স্পেনের পজেশন–ভিত্তিক টেকনিক্যাল ফুটবল, আর্জেন্টিনার আবেগ ও অভিজ্ঞতা, আর ইংল্যান্ডের ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলাÑচার ভিন্ন স্টাইল এক মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ সাধারণত যে দলই জিতুক, কয়েকটি ম্যাচ আমাদের স্মৃতিতে গেঁথে থাকে; ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সেই তালিকায় পুরো সেমিফাইনাল পর্বই যুক্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
