জীবননগর প্রতিনিধি \ চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভারি বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানির প্রবল স্রোতে অনেক ¯’ানে কাঁচা ও পাঁকা রাস্তা ধ্বসে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ৩ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতে কৃষি জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছে চাষিরা। জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ভারি বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকার আউশ ধান, কচু, ধনেপাতা, কলা, আখ, পেঁপে, মরিচসহ শরৎকালীন সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলার উথলী গ্রামের তরুণ চাষি কৌশিক রহমান বলেন, ১ বিঘা জমির ধনেপাতা ডুবে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ৪-৫ দিন পর এটি ১ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম।তাছাড়াও ২ বিঘা জমির ধান ও ১ বিঘা জমির ঝাল পানিতে ডুবে গেছে। এভাবে কিছুদিন জমিতে পানি বেঁধে থাকলে ফসলের শিকড় পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে। একতারপুর গ্রামের ইউপি সদস্য রতন বলেন, ভারি বৃষ্টিপাতে ফসলের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। তাছাড়া একতারপুর গ্রামের প্রধান সড়কের একাংশ পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাস্তা ভেঙে যাওয়ার কারনে ৭-৮ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌছাতে হচ্ছে গ্রামবাসীর। রাস্তা ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ও দ্রুত সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাছাড়াও জীবননগর পৌরসভা, হাসাদহ, মনোহরপুর, বাঁকা, সীমান্ত, আন্দুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, পানি যদি ফসলের ক্ষেত থেকে দ্রুত সরে যায় তাহলে ফসলের তেমন একটা ক্ষতি হবেনা। তিনি আরও জানান, ভারী বর্ষণে ৩৫ হেক্টর আউশ ধান, ৩ হেক্টর মরিচ, ২ হেক্টর চীনাবাদাম, ১০ হেক্টর সবজি, ২ হেক্টর পেঁপে, ১ হেক্টর কলা, ৫ হেক্টর ড্রাগন, ১ হেক্টর মাল্টা, ১ হেক্টর পেয়ারা এবং ৫ হেক্টর ধনেপাতা আক্রান্ত হয়েছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জুয়েল শেখ জানান, ভারী বর্ষণের কারণে উপজেলায় পুকুর, বিল, বাওড় ও ছোট জলাশয়ের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গায় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ। তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
