নিজ সংবাদ \ মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়া—তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য দুটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এই দুই সংকট মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষক কমিটির সহ-সভাপতি তালাত মাহমুদের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়া শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, তার পুরো পরিবার ও সমাজকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রধান অতিথি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌহিদ বিন হাসান বলেন, “আমাদের মাদকের বিষয়ে বেশ কিছু দিকে তদারকি করতে হবে। প্রথমত এই মাদকদ্রব্য কারা যোগান দেয়, সেটা খুঁজে বের করে তাদেরকে থামাতে হবে।

আর দ্বিতীয় বিষয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক প্রতিরোধ ও নির্মূলে সর্বদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চলমান রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই উদ্যোগ আমাদের সবাইকে মিলেই নিতে হবে।” বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মিজানুর রহমান প্রমুখ। কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রুহুল আমিন বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানে চার হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা সবাই তরুণ। তাদের যাতে মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করা যায় সেজন্যই আজকের এ অনুষ্ঠান। আমরা প্রতি ক্লাসের ৪৫ মিনিটের মধ্যে ৫ মিনিট শুদ্ধাচার নিয়ে আলোচনা করি। এতে ধর্মীয় বিষয় ও মাদকমুক্ত জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।” বক্তারা মাদক ও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, এ ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এমন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ সমাজকে সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
