দৌলতপুরে জুলাই যোদ্ধা কবির হোসেনের মরদেহ কবর থেকে তুলতে স্বজনদের বাধা

লাশ না তুলে ফিরে গেলেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট

রবিবার, সেপ্টে ১৩, ২০২৬

 

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ‘জুলাই যোদ্ধা’ কবির হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নিহতের পরিবার এবং স্থানীয়দের তীব্র আপত্তি ও বাধার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়ে ফিরে যান স্থানীয় প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে জুলাই আন্দোলনের শহীদ কবির হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নিহত কবিরের স্ত্রী ও তার পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি বা অনুরোধে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখে ফিরে যান। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানাগেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বিশেষ দল আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর গ্রামের কবরস্থানে পৌঁছায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল আলম, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এমদাদুল হক টোটন, দৌলতপুর থানা পুলিশ, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোয়াজ অলী ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ স্থানীয়রা। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে ঢাকার উত্তরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ব্যবসায়ী কবির হোসেন (৫০)। নিহত হওয়ার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কিশোরীনগর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। কবির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ উত্তরায় বসবাস করতেন। সে সময় কবির হোসেনকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে সরকার গেজেটভুক্ত করা হয় বলে পরিবার দাবি। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করতে গেলে নিহত কবির হোসেনের স্ত্রী সালমা খাতুন ও তার স্বজনরা মরদেহ উত্তোলনে সরাসরি বাধা দেন। তারা প্রশাসনের কাছে তীব্র আপত্তি ও অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এতদিন পর কবর থেকে মরদেহ তুলে নতুন করে কষ্ট দিতে চান না তারা। এ সময় ময়নাতদন্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদনও জমা দেন নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নিহত কবির হোসেনের ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মৃতের পরিবারের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আদালতকে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫জাসদ নেতা হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি কিশোরীনগর গ্রামের বাখের আলী নাম পরিচয় পরিবর্তন করে পরিবার নিয়ে ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত কবির হোসেনই ৫ জাসদ নেতা হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি বাখের আলী বলে সেসময় এ ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনা আসে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়। সত্য ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার আশংকায় কবির হোসেনের স্ত্রী ও স্বজনরা লাশ উত্তোলনে আপত্তি জানায় বলে স্থানীয়দের ধারণা।